টিডিএন বাংলা ডেস্ক : অযোধ্যা ইস্যুতে শান্তির আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী হিন্দ পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি মুহাম্মদ নুরুদ্দিন। তিনি বলেছেন, ‘সম্প্রতি কিছু রাজনৈতিক দল আবার মন্দির-মসজিদ ইস্যুতে সাম্প্রদায়িক বিভাজন করে রাজনীতির ময়দান গরম করতে চাচ্ছে। যেমন পশ্চিমবঙ্গে রথযাত্রা শুরু করা হয়েছে। এখন ভারতের চারটে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন, ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচন। এই রাজনৈতিক দলগুলো বিশেষকরে ভারতীয় জনতা পার্টি যারা কেন্দ্রীয় সরকারে শাসন ক্ষমতায় আছে, তাঁরা কোনও উন্নয়নের ইস্যু খুঁজে না পেয়ে, জনগণের সমর্থন হারাবার ভয়ে, মন্দির-মসজিদ ইস্যু, সাম্প্রদায়িক উসকানিকে সামনে আনতে চাচ্ছে। সাক্ষী মহারাজ দিল্লির জামে মসজিদ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়াসহ তার ভিতরে দেবতার মূর্তি পাওয়া যাবে বলে যে দাবি করেছেন, তা আসলে রাজনৈতিক গিমিক এবং মানুষের মধ্যে ত্রাস সৃষ্টি করা ছাড়া আর কিছুই নয়। সঞ্জয় রাউত যে মন্তব্য করেছেন তাও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আসলে এরমধ্যে না ধর্ম আছে, না কোনও সৎ উদ্দেশ্য আছে। সবসময়ই এরা নির্বাচনকে সামনে রেখে মন্দির-মসজিদ ইস্যু তুলে ধরতে চায়। মন্দির-মসজিদের ভাবনায় জনগণকে ডুবিয়ে রেখে, জনগণকে সেই উত্তেজনার মধ্যে রেখে উত্তেজিত করে সেই আগুনে তাঁরা রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায়। আমার মনে হয় ভারতের জনগণ এধরণের সংকীর্ণ সাম্প্রদায়িক মানসিকতাকে প্রত্যাখ্যান করবে।’

মুহাম্মদ নুরুদ্দিন আরও বলেন, ‘ভারত চিরকাল সম্প্রীতির দেশ। এখানে মুসলিমরা প্রায় এক হাজার বছর শাসন করেছে। তাঁরা যদি মন্দির ভেঙে সব মসজিদ তৈরি করত, তাঁরা যদি হিন্দুদেরকে ধর্মান্তরিত হতে বাধ্য করত, তাহলে ভারতে মন্দিরের অস্তিত্ব থাকার কথা নয়। মাত্র চার বছর ক্ষমতায় এসে বিজেপি যেভাবে তাজমহল থেকে শুরু করে, জামে মসজিদ, লালকেল্লাসহ মুসলিম ঐতিহ্য ধ্বংস করতে চাচ্ছে, মুসলিম নামগুলো (শহর ও জেলা) পরিবর্তন করে দিয়ে মুসলিমদের নিশ্চিহ্ন করতে চাচ্ছে। মুসলিমরা যদি হাজার বছর ধরে এটা করত তাহলে ওঁদের অস্তিত্ব থাকত না। সুতরাং, এসব জিনিস বর্জন করা উচিত, ভারতের জনগণ তা বর্জন করবে। কখনোই সাম্প্রদায়িক বিভাজনের মধ্য দিয়ে মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি করে দেশের কোনও উন্নতি হতে পারে না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা সমস্ত মানুষের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানাচ্ছি এধরণের ভুল প্রচারণায় আপনারা কর্ণপাত করবেন না। ভারতে যে বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের ঐতিহ্য আছে তা রক্ষা করতে হবে।’