নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ: সৌভ্রাত্বের ভারত গড়তে বহরমপুরে সেমিনার করলো জামায়াতে ইসলামী হিন্দ। সংহতি ও সৌভ্রাত্বের ভারত : প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিকার শীর্ষক বিষয়ে সেমিনারে সর্বধর্মীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে সম্প্রীতির আবহে ভরে ওঠে রবীন্দ্র সদন চত্ত্বর। বর্তমান ভারতবর্ষের উদ্বেগজনক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে অতীতের মতো আগামীর সম্প্রীতির ভারতের বার্তা দেন লালবাগ রাধামাধব মন্দিরের মহারাজ বিশ্বজিৎ রায়, ডাঙ্গাপাড়া হাইস্কুলের শিক্ষক গৌরাঙ্গ বাগচী, বাউল জতিন হাজরা, সমাজসেবী সমরেন্দ্র ভট্টাচার্য, সংবাদিক আলমগীর হোসেন, জামায়াতে ইসলামী হিন্দের রাজ্য সভাপতি মাওলানা আব্দুর রফিক, সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান, মহিলা সম্পাদক নায়েমা আনসারী, জেলা সভাপতি মোহাম্মদ মোত্তালিব, সহকারী জেলা নাজিম আব্দুল্লাহিল কাফি, ওয়াসিফ আলী সহ অন্যান্য বিশিষ্ট জনেরা।

এদিন বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে সমাজসেবী সমরেন্দ্র ভট্টাচার্য বলেন, সম্প্রীতির এই দেশে আজ মানবতা ধুঁকছে। সব ধর্ম আমাদের শান্তিময় চলার পথ দেখায়। কাজী নজরুল রবীন্দ্রনাথের বাংলা তথা দেশে একই বৃন্তে দুইটি কুসুম হয়ে চলে বিগত দিনের মতো ঐক্যবদ্ধ ভাবে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। লালবাগ রাধামাধব মন্দিরের মহারাজ বিশ্বজিৎ রায় বলেন, সব ধর্মই ভ্রাতৃত্ব-ঐক্য-সম্প্রীতির কথা বলে। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ নয়, ঐতিহ্যবাহী বহু সংস্কৃতির এই দেশে সকলেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বসবাস করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে আগামীদিনে দেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পুণ্য ভূমিতে পরিণত করা সকলের কর্তব্য। অন্যদিকে এদিন গানে গানে সম্প্রীতির ঐক্য ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের বার্তা তুলে ধরেন বাউল শিল্পী জতিন হাজরা। এদিন নবী জীবনের উপর স্ট্যাটাস ও প্রবন্ধ লেখার জন্য ছয় জন ছাত্র যুবকে পুরস্কৃত করা হয়।

পরে সাংবাদিক সম্মেলনে জামায়াতের রাজ্য সভাপতি মাওলানা আব্দুর রফিক মানবতার মুক্তদূত হজরত মোহাম্মদ স. সম্পর্কে প্রচারাভিযানের কর্মসূচি ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান ভারতীয় সমাজ ও সংস্কৃতিকে কালিমালিপ্ত করছে শ্লীলতাহানি-ধর্ষণ- পরকীয়া, ভ্রূণ হত্যা, নারী পাচারের মতো জঘন্য অপরাধ গুলো।দেশের মূল শক্তি যুব সমাজের নৈতিক মেরুদন্ডকে ভেঙে ফেলেছে সরকারের ভ্রান্ত নীতি। অপসংস্কৃতি অবাধ যৌন উত্তেজক পরিবেশ , নেশাজাতীয় দ্রব্যের সহজলভ্যতা যুব সমাজকে শেষ করে দিচ্ছে। তাই জামায়াতে ইসলামী হিন্দের উদ্ভূত সমস্যা গুলোর সমাধানের লক্ষে হজরত মোহাম্মদ স. এর মানবতার মুক্তিদূত বিষয়ে প্রচারাভিযান করছে। হিন্দু-মুসলিম-জৈন- খ্রিস্টান সহ সকলের সামনে নবী স.এর আদর্শ তুলে ধরছে জামায়াত।