সামাউল্লাহ মল্লিক, টিডিএন বাংলা, কলকাতা : আলিয়া ইউনিভার্সিটি পার্ক সার্কাস ক্যাম্পাসে শাহ আবু বকর সিদ্দিকী মেমোরিয়াল কমিটির পক্ষ থেকে দেশ বিদেশের মুসলিম লেখক এবং অধ্যাপকদের নিয়ে ২ দিনের আন্তর্জাতিক সন্মেলনের আয়োজন করা হয়। অবিভক্ত বাংলার ধর্মীয় এবং সমাজ সংস্কারক হিসাবে পরিচিত দাদাহুজুর পীর কেবলার নামে এই সেমিনারের থিম রাখা হয়। ‘পীর আবু বকর সিদ্দিক ও আর্থ – দক্ষিণ এশিয়ায় ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন’ এই ছিল এই সেমিনারের মূল থিম।

আন্তর্জাতিক এই সেমিনারের কনভেনর সাইয়েদ মুহাম্মদ বাহাউদ্দিন দুই দিন ব্যাপী এই সেমিনারের থিম সম্পর্কিত বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, “সুধাকর নামের কাগজ বের করেছিলেন হুজুর। এমন একজন পীর দেখান যিনি কাগজ বের করেছেন। এমন একজন পীর দেখান যিনি সংগঠন করেছেন। আমরা দাদাহুজুর পীর কেবলার রাস্তা থেকে সরে গিয়েছি বলেই মনে হয়। আজকের এই সন্মেলন আমাদের আবারো তার পথে ফিরিয়ে আনতে পারেন। এবং তাকে নিয়ে গবেষনা আরো উন্নত পর্যায়ে যাবে।”
বাংলাদেশের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি কুস্তিয়ার প্রফেসর শহীদুল ইসলাম নূরী সেমিনারের দ্বিতীয় দিন ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মুসলিম স্বতন্ত্র পুনরুত্থানে হজরত শাহ আবুবকরের ভূমিকা’ বিষয়ক আলোচনায় বক্ত্যব্য রাখেন। তিনি মুহাম্মদ বাহাউদ্দিনের কথার প্রসঙ্গ ধরে বলেন, “দাদাহুজুর ‘মিহির’, ‘সুধাকর’, ‘মুসলিম হিতৈষি’, ‘আল ইসলাম’ ইত্যাদি সংবাদপত্র পরিচালনায় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন।”
দুই দিনের এই আন্তর্জাতিক সন্মেলনের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে শাহ আবু বকর সিদ্দিকী মেমোরিয়াল কমিটির অন্যতম সদস্য এবং জেএনইউ ছাত্র আব্দুল মাতিন টিডিএন বাংলাকে বলেন, “আমরা চাই বর্তমান প্রজন্মের মুসলিম ছেলেমেয়েরা আবু বকর সম্পর্কিত বিষয়ে পড়াশুনার পাশাপাশি গবেষনা করুক এবং তিনি যে কাজ আঞ্জাম দিয়েছেন সেই কাজে তারা অগ্রণি ভূমিকা রাখুক।” বর্তমান বাংলার মুসলিমদের শুদ্ধিকরণে ভবিষ্যৎকালে পীরেরা এগিয়ে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কলকাতা ইউনিভার্সিটির প্রফেসর অমিত দে এই সভায় অংশগ্রহন করেন। তিনি বলেন, “এটি স্বাধীনতার পূর্বে পীর আবুবকরের পশ্চিমবঙ্গের জন্য যোগদান বিষয়ক প্রথম আন্তর্জাতিক সন্মেলন। বিভিন্ন দেশে আবুবকরকে নিয়ে গবেষনা চলছে।” বাংলা ভাষা এবং সমাজের জন্য কাজ করার জন্য তিনি আবু বকরের ভুয়ষী প্রশংসা করেন।
আল আজহার ইউনিভার্সিটি কায়রোর প্রফেসর জামাল ফারুক জিব্রিল এই সেমিনারে পীর আবুবকরের জীবনী বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, “তিনি শুধু পীর ই নন, তিনি সমাজ সংস্কারক। তার হাত ধরে হাজার হাজার মানুষ ইসলামে আসেন।” সুফী ইজম নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমরা সেই সব সুফীদের মানব যারা কোরান মানে। মসুলিম উম্মাহ সাফার করছে তাজকিয়া এবং কুরান ছাড়া হওয়ার কারণে।”
কলকাতার বুকে এমন ধরণের আন্তর্জাতিক সেমিনার এই প্রথম। দাদাহুজুর পীর কেবলা আবুবকর সিদ্দিকীর জীবন ধারার উপর আলোচিত এই সেমিনার বর্তমান প্রজন্মকে আশার আলো দেখাবে বলেই অভিমত বিভিন্ন মহলের।