টিডিএন বাংলা ডেস্ক: নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বিক্ষোভের মধ্যেই রাজ্যে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই দিনই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক হয়। সেই বৈঠক নিয়ে রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে উঠে। এরপরেই মুখ্যমন্ত্রীতে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় বামফ্রন্ট সমর্থিত শিক্ষার্থীরা। বুধবার এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে ১৫০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে। 
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাত এবং সিএএ-বিরোধী লড়াইয়ে হতাশার অভিযোগে বামপন্থীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন মমতা। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতি, সরকারী কর্মচারীকে দায়িত্ব পালনে বাধা, লাঞ্ছিত করার মতো জামিন অযোগ্য ফৌজদারি আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। হেয়ার স্ট্রিট থানায় এই মামলা নথিভুক্ত করা হয়। এখন এই মামলা দায়ের হওয়ার পর রাজনৈতিক মহলে নানা চাপানউতোর তৈরি হয়েছে। 
পুলিশ অবশ্য বলছে, অভিযোগ আনা হয়েছে, সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া, হাঙ্গামা বাধানোর। ওইদিনের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আন্দোলনকারীদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।  এর পাশাপাশি এও বলে, আন্দোলনকারীদের শিক্ষা দিতে নয়,  বরং নিজেদের পিঠ বাঁচাতেই এই মামলা রুজু করা হয়েছে। আদালতে মামলা হলে লালবাজারের কর্তারা পরে এটা অন্তত বলতে পারবেন যে, পুলিশ পুরো নিষ্ক্রিয় ছিল না। 
পুলিশের এক কর্তার কথায়, ‘‘আপাতত কাউকেই গ্রেফতার করা হবে না।’’ কিন্তু অনেকেই বলছেন, জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে কার্যত ভয় দেখিয়ে রাখল পুলিশ। যাতে ভবিষ্যতে আন্দোলন করলে জেলে যাওয়ার ভয়টা মানুষের মধ্যে কাজ করে। সূত্রের খবর, পার্ক সার্কাসে যে অবস্থান-বিক্ষোভ চলছে, সেখানেও বহু গোয়েন্দা সাদা পোশাকে নজরদারি চালাচ্ছেন।
গ্রেফতার করা হবে না বললেও অভিযোগ, নতুন নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী মহম্মদ আকিল নামে এক যুবককে মঙ্গলবার রিপন স্ট্রিট থেকে পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়েছে। লালবাজার অবশ্য জানিয়েছে, তাঁকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি। শুধু জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রাতে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।