টিডিএন বাংলা ডেস্ক : ছাত্র সাংসদ নির্বাচনের দাবীতে উত্তাল হল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, উপাচার্যকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাল ছাত্র- ছাত্রীরা। মঙ্গলবার সকাল থেকেই অবস্থান বিক্ষোভ করে পড়ুয়ারা ৷ রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তি জারি থাকা স্বত্ত্বেও রাজ্যের কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র কাউন্সিল প্রক্রিয়া কেন আটকে রয়েছে, কেন হচ্ছে না ছাত্র সংসদ নির্বাচন? তা নিয়েই ক্ষোভে ফেটে পড়েন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা ৷ অন্যদিকে, সিসিটিভির দাবিতে পাল্টা অবস্থান করে টিএমসিপি ৷

দাবী নিয়ে পড়ুয়াদের সঙ্গে বৈঠক করেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল ৷ কিন্তু তাতে কোন সমাধান বেরোয় না। তাই বৈঠক শেষ হতেই আবার ক্ষোভে ফেটে পড়েন পড়ুয়ারা ৷ মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি তৈরি হয় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ৷ পড়ুয়াদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন উপাচার্য, সহ-উপাচার্য ৷ তারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরোতে গেলে রীতিমত দু’পক্ষের ধস্তাধস্তি শুরু হয় ৷ এতে অসুস্থ হয়ে পড়েন উপাচার্য সুরঞ্জন দাস। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পায়ে চোট পেয়েছেন সহ উপাচার্য । সুরঞ্জন দাস জানান, বৈঠক থেকে বেড়নোর সময় পড়ুয়ারা চড়াও হয় আমার এবং সহ কর্মীদের ওপর। তার অভিযোগ ছাত্র ছাত্রীরা খারাপ ভাষায় কথা বলেছেন তার সঙ্গে।

যাদবপুর বিশ্ববদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ছাত্রী আফরিন বেগম জানান, আমরা কাউন্সিল চাইছি না ইউনিয়নটাই চাইছি। এই নিয়েই আমাদের আন্দোলন। আজকে আমাদের একটা ডেপুটেশন জমা দেওয়ার কথা ছিল। তিন চারটে ইউনিয়ন মিলে যৌথ মিছিলে আমরা অরবিন্দ ভবনে আসি। কিন্তু ডেপুটেশন দিতে যাওয়ার আগে উপচার্য ঘর ছেড়ে বেড়িয়ে যান। সেখানে উপস্থিত ছিল তৃণমূল সমর্থক ছাত্রছাত্রীরা। তারাই উপচার্যকে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। তখন আমরা আলোচনা করার জন্য উপচার্যর কাছে যেতে চাই। ঘটনাস্থলে আমাদের বাধা দেওয়া হয়। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ওপর চড়াও হয় তৃণমূল সমর্থক পড়ুয়ারা। ঘটনা হাতাহাতির পর্যায় চলে যায়। সেখানেই আহত হয়ে পড়েন উপাচার্য। স্টুডেন্ট ইউনিয়ন ইলেকশনেকর দাবি যারা তাদের গায়ে হাত তুলেছে তাদেরকে চিন্থিত করে যতক্ষণ না শাস্তি দেওয়া হবে এবং ছাত্র নির্বাচনের সদুত্তর পাচ্ছি ততক্ষণ অবস্থান বিক্ষোভ চলবে।

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ৷ তিনি বলেন, ‘কোনও না কোনও ইস্যুতে বারবারই আন্দোলন শুরু করে যাদবপুর ৷ এর মোকাবিলা করতে হবে ৷ যদি কিছু সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে সেটি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব ৷ উপাচার্যকে ধাক্কা মারার ঘটনায় যারা জড়িত রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে ৷’