সেখ সাদ্দাম হোসেন, টিডিএন বাংলা, উনসানি : পুজোতে অসহায় হিন্দুুদের হাতে পুজোর উপহার হিসাবে শাড়ি তুলে দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ও সৌহার্দ্যের এক অনন্য নজির পেশ করলেন উনসানি সচেতন সমাজের কর্ণধার রজব আলি খান। সাথে এলাকার কিছু মুসলিম মহিলাকেও দেওয়া হয় এই উপহার। অনেক জায়গায় পঞ্চমিতেই পড়ে গেছে ঢাকের কাঠি। কোথাও বা তারও আগে। সারাবাংলা জুড়েই চলছে শারদ উৎসবের আনন্দ। হাওড়া জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম উনসানি শিউলি পাড়ার মানুষের আগমনির আনন্দটা এদের থেকে একটু আলাদাই থেকে গিয়েছিল।

 

 

 

 

অনেকেরই পুজোর জামা হয়নি। তাই ষষ্ঠী অর্থাৎ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সকলের মাঝে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেবার ব্যাবস্থা করেন তিনি। ‘উনসানি মায়ের ছেলে পুজাকমিটি’-র সম্পাদক শিবনাথ দাস টিডিএন বাংলাকে বলেন, “অষ্টম বর্ষীয় এই পুজো হিন্দুু মুসলিম সকলের সহযোগিতাতেই হয়ে আসছে। আর বস্ত্রদান এই প্রথম। তাই অন্যান্য বছরের তুলনাই এই বছরের পুজোর আনন্দ একটু আলাদা। রজব আলি ভাই এলাকার গরীব দু:স্থ মানুষের মাঝে পুজোর উপহার তুলে দিয়ে আমাদের পুজোর আনন্দে এক অন্য মাত্রা এনে দিয়েছেন।” পুজো কমিটির সভাপতি কার্তিক মালিক বলেন, “গরীব এলাকা, অনেকেরই পুজোর জামা হয়না। পঞ্চমীর দিন উনি হঠাৎই এসে বললেন যে সকলের মাঝে উৎসবের আমেজ, আনন্দ ভাগ করে নিতে চাই। তাই আজকের এই অনুষ্ঠান।” এদিন প্রায় দুই শতাধিকের বেশি মহিলাদের হাতে শাড়ি তুলে দেওয়া হয়। এদিন উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন সানন্দা তিলোত্তমা মিস মলি, জগাছা থানার ও.সি আব্দুল গফফার, হাওড়া ৪৬নং ওয়ার্ডের তৃণমুল সভাপতি কালিদাস মিত্র বিশিষ্ট আইনজীবি আমিরুল ইসলাম মিদ্যে সহ পুজাকমিটির সদস্যরা।

 

 

 

 

 

শাড়ি হাতে ষাটোর্ধ কৃষ্ণা হাসিমুখে বলেন, “একটাও শাড়ি হয়নি পুজোতে। তাই শাড়িটা পেয়ে খুব ভালো লাগছে।”একই কথা বলে গেলেন পাশের এলাকা থেকে আগত বছর সত্তরের রেবা রায়, “শাড়িটা পড়ে কাল পুষ্পাঞ্জলি দেব এবং এলাকার ঠাকুর ও দেখতে যাবো।” আর এলাকায় দানশীল হিসাবে পরিচিত রজব আলি খান ওরফে সকলের প্রিয় লাল্টু দা টিডিএন বাংলাকে বলেন, “মানব প্রেমই হল আসল প্রেম।মানুষকে ভালো বাসাতেই আছে অকৃতিম আনন্দ। তাই শারদীয়ার আনন্দ এলাকার গরীব মানুষগুলির মাঝে পৌঁছে দিতে পেরে আমি খুশি।”