টিডিএন বাংলা ডেস্ক: সংস্কৃত বিভাগে মুসলিম অধ্যাপককে নিয়োগ করা হয়েছে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু সংস্কৃত বিভাগে মুসলিম অধ্যাপক কেন, এই প্রশ্ন তুলে অধ‍্যাপকের নিয়োগের বাতিলের দাবিতে লাগাতার বিক্ষোভ দেখায় সেই বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা। এবার তাদেরকে শিক্ষা দিতে সংস্কৃত বিভাগে মুসলিম অধ্যাপককেই নিয়োগ করল রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যামন্দির। মঙ্গলবার সংস্কৃতের সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগ করা হল মুসলিম অধ্যাপক রমজান খান এবং আদিবাসী অধ্যাপক গণেশ টুডুকে। আর রামকৃষ্ণ মিশনের এই উদ্যোগ ইতিমধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে বিভিন্ন মহলে।

চলতি সপ্তাহেই বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগে একজন মুসলিম অধ্যাপকের নিয়োগ ঘিরে দেখা দেয় অচলাবস্থা। গবেষক ফিরোজ খানের কাছে সংস্কৃতের পড়তে না চেয়ে উপাচার্যের বাড়ির সামনে প্রতিবাদ–বিক্ষোভে সামিল হয় পড়ুয়ারা। কিন্তু সেই বিতর্কের মাঝেই রামকৃষ্ণ মিশনের এই উদ্যোগ। তবে এই প্রথম নয়, ২০০০ সালেও শামিম আহমেদকে বিদ্যামন্দিরের দর্শন বিভাগের শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছিল। মহাভারতের উপর গবেষণা করা এই মুসলিম অধ্যাপক বর্তমানে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্বও সামলাচ্ছেন। গত দুই দশক ধরে পড়ুয়াদের ভারতীয় দর্শনের পাঠ দিয়ে চলেছেন তিনি। আহমেদের সাথে ফরিদুল রহমানকেও ওই বিভাগে নিয়োগ করা হয়েছিল তখন।

এই প্রসঙ্গে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সাধারণ সম্পাদক স্বামী সুভিরানন্দ বলেন, ‘‌আমরা প্রকৃতির বহুত্ববাদে বিশ্বাসী। রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব সর্বদা সমাজের সর্বস্তরে সম্প্রীতির প্রচারই করে গেছেন।’‌ এছাড়া রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ এডুকেশনাল অ্যান্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউটের উপাচার্য স্বামী আত্মপ্রিয়ানন্দ বলেন, ‘‌আমরা সহনশীলতা এবং সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতার অনুশীলন করি। স্বামীজি সর্বজনীন ধর্ম সম্পর্কে কথা বলতেন এবং আমরা বাস্তবে এটি অনুশীলন করি।’‌‌