নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ: প্রত্যন্ত গ্রামীন এলাকা থেকে এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসলেন মুক ও বধির এক ছাত্র কামরুজ্জামান ও দুই ছাত্রী শাহীনা খাতুন ও আল্পনা দাস। পা না চললেও বাবা মায়ের কাঁধে ভর করে মাধ্যমিক দিলেন প্রতিবন্ধী রাজিয়া সুলতানা। মঙ্গলবার ভালোভাবে বাংলা পরীক্ষা দিয়ে খুশিতে বাড়ি গেলেন তারা। বোবা ও প্রতিবন্ধী ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষা ঘিরে সামসেরগঞ্জ ও ফারাক্কায় ব্যাপক উদ্মাদনা লক্ষ করা যায়।

জানা গিয়েছে, কামরুজ্জামান ফারাক্কা ব্লকের ইমামনগর হাইস্কুলে পড়াশুনা করেই এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেছেন। বাবা আব্দুস সামাদ দারিদ্র হলেও ছেলেকে উচ্চশিক্ষার তাগিদেই মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। সেন্টার পড়েছে নিউ ফারাক্কা হাইস্কুলে। পাশাপাশি সাহিনা খাতুন ও আল্পনা দাস ধূলিয়ান বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী। উভয়েই সেন্টার সামসেরগঞ্জের চাচন্ড বিজে হাইস্কুল। মুখে কথা না বলতে পারলেও নিজের চেষ্টা করে লিখার মাধ্যমেই আজ মাধ্যমিক পর্যন্ত এসে পৌঁছেছে সাহিনা খাতুন ও আল্পনা দাস।এদিন অন্যান্য বান্ধবীদের সাথে এদিন আগ্রহ সহকারে পরীক্ষায় বসেন তারা। বাংলা পরীক্ষা দিয়ে হাসি মুখে বেরিয়েও আসেন দুই ছাত্রী।

অন্যদিকে সুতি থানার হরিপুর এলাকা থেকে এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেন প্রতিবন্ধী রাজিয়া সুলতানা।। নিজে হাটতে না পারলেও বাবা মোহাম্মদ লতিফুর রহমান ও মাঞ্জুলা মুস্তারির কাঁধে হাত দিয়েই পরীক্ষা দিতে আসেন তিনি। বাংলা পরীক্ষা শেষে রাজিয়া জানান, খুব ভালো পরীক্ষা হয়েছে। পা না চললেও মনের জেদেই পরীক্ষা দিলাম। বাবা লতিফুর রহমানও জানান, মেয়ে মেধাবী। প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে তাকে পরীক্ষা দিতে নিয়ে এসেছি। আশা করি ও সফল হবে।