নিজস্ব ছবি

নিজস্ব প্রতিনিধি, টিডিএন বাংলা, কলকাতা : একদিকে যখন ব্রাহ্মনবাদীরা দুর্গা উৎসব নিয়ে মেতে উঠেছে ঠিক তখনই মুল ভারতীয় ভুমিসন্তানেরা মহিষাসুর (হূদুড়দুর্গা) শহীদ স্মরণ পালন করলো বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে। নকল যুদ্ধো সমারহে লাঠি খেলা, ছৌ নাচ, করম নৃত্য, দাসাঁই নৃতের মাধ্যমে দূঃখ প্রকাশ করলেন এসসি, এসটি, ওবিসি ও মাইনোরিটিরা।

মেদিনীপুরের কেন্দাশোলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন কৃষ্ণকান্ত মাহাতো। উপস্থিত ছিলেন তৃনমূল কংগ্রের বিধায়ক শ্রীকান্ত মাহাতো, সংবিধান বাচাঁও সমিতির সুচেতা গোলদার এবং মানভুমি দলিত সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংঘের চারিয়ান মাহাত। ঝাড়গ্রাম আমলাচটি গ্রামে আয়োজন করেন বিধান মাহাতো, মনোজ মাহাত, রজনী মাহাতো খগেন মাহাতো, সেখানে উপস্থিত ছিলেন সুচেতা গোলদার, চারিয়ান মাহাত, কৃষ্ণ্কান্ত মাহাতো, প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান ধনঞ্জয় মাহাতো প্রমুখ।

সাকরাইল ব্লক সোনাকুনরায় পূর্বাঞ্চল আদিবাসী কুড়মি সমাজ থেকে আয়োজন করেন মৃণময় মাহাতো ও সমীর মাহাতো। পুরুলিয়ায় মাকড়াবেড়া গ্রামে রাকাব পরগনা মুলনিবাসী সংস্কৃতি সংহতি পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়। এখানে চারিয়ান মাহাতোর তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানটি পরিচালানো করা হয়। কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিতে মহিষাসুর (হূদুড়দুর্গা) শহীদ স্মরণ পালন করা হয়।

উপস্থিতি ছিলেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক ও কলেজ পরিদর্শক ডঃ সুশীল হাঁসদা, অধ্যাপক বেড়ানী বিঃ বিঃ এম ইন্টার কলেজের ডঃ রাকেশ মাহাত, তৃনমূল কংগ্রের বিধায়ক শ্রীকান্ত মাহাতো, সংবিধান বাচাঁও সমিতির সুচেতা গোলদার, দলিত মুসলিম ফ্রেন্টশিপ সোসাইটির আবদুর রহমান ও বঙ্গীয় হরিগুরুচাঁদ আম্বেদকর চেতনা মঞ্চের প্রশান্ত রায় ও উৎপল বিশ্বাস।

পুরুলিয়ায় শুনুনিয়া গ্রাম, বলরামপুর, বানঁসা ইত্যাদি জায়াগাতেও এদিন শহীদ স্মরণ পালন করা হয়। পার্শ্ববর্তী রাজ্য ঝাড়খন্ডের কুম্বাট্যাড় ও আসনবনীতেও শহীদ স্মরণ পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে সবাই একটা কথাই বারবার বললেন, আমাদের ইতিহাস সংস্কৃতি ভুলে গেলে চলবে না, এটা আমাদের সকলকে দায়িত্ব নিয়ে ধরে রাখতে হবে।