টিডিএন বাংলা ডেস্ক: নিম্নচাপের জেরে রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে বৃষ্টিপাত। বৃষ্টির কবলে পড়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে ধান চাষী থেকে শুরু করে সবজি চাষিদের। মাঠে কাটা ধান বৃষ্টির জন্য ঘরে তুলতে পারেনি চাষিরা। ফলে সেই ভিজে ধান থেকে অঙ্কুর বেরিয়ে গিয়েছে মাঠেই। এখন ওই ধান থেকে চাল তৈরি করা তো দুরের কথা এমনকি গবাদি পশুদের খাওয়ার উপযুক্ত নয় এই বৃষ্টি ভেজা ধান। আক্ষেপের সুরে একথা জানান চাষিরা।
শুধু ধান নয়, এর পাশাপাশি পটল, ঝিঙে, শশা, উচ্ছে, কলাইশুটি, ফুলকপি সহ বিভিন্ন সবজি বৃষ্টির কবলে পড়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। বৃষ্টির কারণে সবজিতে হলুদ রঙের পচন দেখা দিয়েছে। পুজোর মুখে ব্যাপকভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ধান ও সবজি চাষীরা। এ ছবি বাঁকুড়া সোনামুখী থানা এলাকার।

টানা ৭ দিনের বৃষ্টির জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মৃৎশিল্পী, প্যান্ডেল শিল্পীদের পাশাপাশি হয়েছেন প্রান্তিক চাষীরাও। তাদের এখন মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে। কী করে এই ক্ষতির বোঝা মাথা থেকে নামবে সেই ভেবে দিশেহারা সোনামুখী এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের চাষীরা। এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে সরকারিভাবে কোনো উদ্যোগ না নেওয়া হলে এই এলাকার চাষীদের সমূহ বিপদ। এমনই দাবি চাষিদের। স্থানীয় চাষীদের অনেকে চড়া সুদে ব্যক্তিগত ঋণ নিয়ে কিংবা কেউ ব্যাংকের ঋণ নিয়ে এই ধান ও সবজি চাষ করেন। এই এলাকার প্রায় সকলেরই জীবন-জীবিকা চলে এই চাষের উপরে নির্ভর করে। আজ থেকে আবহওয়া কিছুটা উন্নতি হলেও এই চাষীদের আগামী দিন কীভাবে চলবে সেই নিয়েই দেখা দিয়েছে আশঙ্কা।

তবে চাষিদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রশাসন। তিনি বলেন, চাষীদের যে ক্ষতি হয়েছে প্রশাসনিক ভাবে তদন্ত করে সাহায্য করা হবে। কবে নাগাদ এই আশ্বাসবাণী বাস্তবে পরিনতি পায় সেদিকেই তাকিয়ে স্থানীয় চাষীরা।