টিডিএন বাংলা ডেস্ক : বয়স প্রায় সত্তর ছুঁই-ছুঁই, তবুও বিড়ি বেঁধেই সংসার চালাতে হয় স্বামীহারা দিলজান বেওয়াকে। আর সেই বিড়ি বাঁধার মজুরির টাকা থেকে একটু একটু করে জমিয়ে শৌচাগার তৈরি করে নজির গড়লেন মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ ব্লকের দোগাছি ন’‌পাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের লস্করপুর গ্রামের দিলজান বেওয়া।

অভাবের তারনায় আজীবন ধরে মাঠে নিত্যকর্ম করে অভ্যস্ত। দীর্ঘদিন ধরেই মনের আশা ছিল একটি শৌচাগার নির্মাণের। আর সেই আশার বাস্তব রূপ শেষ বয়সে হলেও দিতে পেরে ভীষণ খুশি দিলজান বেওয়া। প্রায় চল্লিশ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে এক ছেলেকে নিয়ে কোনও রকমে বিড়ি বেঁধে তিনি সংসার চালাতেন। কিছুদিন আগে ছেলের বিয়ে দিলেও বউ অসুস্থ থাকায় স্ত্রী–পুত্র রেখে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায় ওই একমাত্র ছেলে। বৃদ্ধা বয়সে কষ্ট করে জীবন নির্বাহ করেন এই দিলজান বেওয়া।

বাড়িতে শৌচালয় নির্মাণ না করলেও বর্তমানে প্রশাসনের সচেতনতায় ও নির্মল বাংলায় অংশগ্রহণ করতে শৌচালয় নির্মাণে উদ্যোগী হলেও অর্থের অভাবে পিছুটান নেন তিনি। কিন্তু মাঠেঘাটে নিত্যকর্ম করলে যে ক্ষতি হয়, সে কথা ব্লক প্রশাসনিক আধিকারিকদের কাছে শুনে তিনি শৌচালয় তৈরি করতে ফের উদ্যোগী হন। দু’‌বছর ধরে বিড়ি বাঁধার মজুরি এবং বার্ধক্য ভাতার টাকা জমিয়ে শৌচালয় গড়লেন দিলজান বেওয়া। শৌচালয় গড়তে বৃদ্ধার এই প্রচেষ্টার প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রশাসনিক আধিকারিক থেকে শুরু করে এলাকাবাসী, সকলেই। লস্করপুর গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ অশিক্ষিত। সচেতনতার অভাবে এখনও মাঠে শৌচকর্ম করা থেকে বিরত হননি তঁারা। দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফল হিসেবে ধীরে ধীরে সচেতন করা গেলেও মাস ছয়েক আগে পর্যন্ত এলাকার বেশিরভাগ বাসিন্দার ছিল না কোনও শৌচালয়ই। যদিও বর্তমানে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বারবার প্রচারের কাছে মাথা নোয়াতে বাধ্য হয়েছেন এলাকাবাসী। নিজেরা সচেতন হয়ে কেউ ছাগল বিক্রি করে, কেউ আবার কানের দুল বিক্রি করে গড়েছেন শৌচালয়।

এই লস্করপুর গ্রামেরই গরিব বৃদ্ধা মহিলা দিলজান বেওয়া। চল্লিশ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে ছেলেকে নিয়ে নিজেই কষ্ট করে বিড়ি বেঁধে সংসার চালাচ্ছেন তিনি। কিন্তু সেই ছেলেও বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। মাঠেঘাটে শৌচকর্মের অভ্যাস থাকলেও সম্প্রতি প্রশাসনিক চাপ ও মাঠেঘাটে নিত্যকর্ম সারার কুফল সম্পর্কে জানার পর নিজেই শৌচালয় গড়তে উদ্যোগী হন। টাকার অভাবে শৌচালয় নির্মাণ থমকে গেলেও থেমে থাকেননি তিনি। বৃদ্ধা বয়সে বার্ধক্য ভাতার টাকা এবং বিড়ি বঁাধার মজুরি জমিয়ে সেই টাকা দিয়েই তিনি শৌচালয় নির্মাণ করেন।

এই প্রসঙ্গে বৃদ্ধা দিলজান বেওয়া জানান, ‘‌আমরা গরিব মানুষ। ব্লক অফিস থেকে খোলা মাঠে শৌচকর্ম করলে কী কী সমস্যা হয়, তা আমাদের বোঝানো হয়। ইচ্ছে থাকলেও টাকার অভাবে শৌচালয় তৈরি করতে পারছিলাম না। তাই বাধ্য হয়ে বৃদ্ধা ভাতার টাকা এবং বিড়ি বঁাধার মজুরি জমিয়ে এই শৌচালয় বানিয়েছি।’‌ এদিকে, বৃদ্ধার এই অভিনব উদ্যোগে খুশি ব্লক ও জেলা প্রশাসন। সামশেরগঞ্জ ব্লকের বিডিও জয়দীপ চক্রবর্তী এ বিষয়ে বলেন, ‘‌মানুষ নিজেরাই যেভাবে সচেতন হয়ে শৌচালয় নির্মাণে উদ্যোগী হচ্ছেন, তা অত্যন্ত আনন্দের খবর। মাঠেঘাটে শৌচকর্ম করা থেকে ফেরানোর লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছিলাম। এখন মানুষ নিজেরাই উদ্যোগী হচ্ছেন।’‌