মো ইউসুফ হোসেন, টিডিএন বাংলা, সামশেরগঞ্জ : মাস খানেক আগেই ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে কলকাতার এন.আর.এস মেডিকাল কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন হাউসনগর গ্রামের আমিনুল ইসলাম। তার কদিন পরেই ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে টানা কয়েকদিন জ্বরে ভুগে মারা যান হাউসনগর গ্রামের বেদানুর বিবি (৪০) ও ইয়াকুব আলি (২৬)। ফের গত মঙ্গলবার জ্বর, গা হাতে তীব্র ব্যাথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির দুদিনের মধ্যেই মারা গেলেন চশকাপুর গ্রামের আসনারা বিবি। ব্লকের বিভিন্ন প্রান্তে যেন এক ভয়াবহ রুপ ধারন করেছে এই অজানা জ্বর।প্রায় প্রত্যেকটি বাড়িতেই কেউ না কেউ এই অজানা জ্বরে ভুগছেন। গ্রামবাসী থেকে বেসরকারি ল্যাব এই জ্বরকে ডেঙ্গু বললেও, মানতে নারাজ ব্লক প্রশাসন। সামশেরগঞ্জ ব্লকের স্বাস্থ্য অধিকর্তা গোলাপ হোসেনের বক্তব্য, মানুষ সাধারণ জ্বরকেই ডেঙ্গু বলে প্রচার করে দিয়ে নিজেরা আতঙ্কিত হচ্ছেন। ব্লকে এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গুতে এগারোজন আক্রান্ত হলেও কেউ মারা যায় নি বলেও জানান তিনি। তিনি আরো জানান, সাধারণ মানুষকে ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতন করতে পাড়ায় পাড়ায়, আইসিডিএস সেন্টারে, পঞ্চায়েতে এমনকি মহল্লার মসজিদ গুলো থেকেও প্রচার চালানো হচ্ছে। সেই সাথে ব্লকের বিভিন্ন প্রান্তে স্প্রেও করানো হচ্ছে।

এদিকে এই অজানা জ্বরে সামশেরগঞ্জ ব্লকের সব থেকে বেশি আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে হাউসনগর গ্রামে। ওই গ্রামেরই এক জুনিয়ার স্কুলের শিক্ষক কাদির সেখ ও তার পরিবারের চারজন এখনো কলকাতা এনআরএসে ভর্তি হওয়ার পাশাপাশি তারাপুর হাসপাতালে গত চারদিন ধরে ডেঙ্গু নিয়ে ভরতি রয়েছেন হাউসনগরেরই খালেদা খাতুন। ফলে ডেঙ্গু আতঙ্ক এখনও কাটিয়ে তুলতে পারছেন না সাধারণ মানুষ।

অন্যদিকে ব্লক প্রশাসন ডেঙ্গু সামলাতে ব্যর্থ এই অভিযোগ তুলে বুধবার ব্লকের স্বাস্থ্য অধিকর্তার দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে যুব কংগ্রেস। তাদের দাবি, ব্লক জুড়ে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও প্রশাসনের কোনো সদর্থক ভুমিকা লক্ষ করা যাচ্ছে না। তাই অবিলম্বে ডেঙ্গু প্রতিরোধে উন্নত মেডিক্যাল টিম নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছে তারা।

Not available