রেবাউল মন্ডল, টিডিএন বাংলা, নওদা: সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে দিল্লির শাহীনবাগের মত আন্দোলন বিক্ষোভ ও ধর্ণা শুরু হয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। পিছিয়ে নেই ব্রিটিশের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী জেলা মুর্শিদাবাদও। এই জেলার জঙ্গিপুরের পাশাপাশি নওদার পাটিকাবাড়িতেও চলছে অবস্থান বিক্ষোভ ও ধর্ণা কর্মসূচি।

পাটিকাবাড়িতে ভারতীয় সংবিধান রক্ষা মঞ্চের সিএএ এনপিআর এনআরসি বিরোধী ধর্ণা রবিবার ২০ দিনে পড়ল। মুর্শিদাবাদের নওদা থানার ওই ধর্নামঞ্চ যেন আর এক ‘শাহীনবাগ’ হয়ে উঠেছে। গত ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনা পাঠ সহ দেশাত্মবোধক নানান কবিতা আবৃত্তি সংগীত ও স্লোগানের মাধ্যমে শুরু হয় অনির্দিষ্টকালীন ওই ধর্নামঞ্চ।

ধনঞ্জয় বীদ, শ্রীকান্ত সরকার, আশীষ দত্ত, গৌরাঙ্গ মণ্ডল রা জানাচ্ছেন, শুরু থেকেই মঞ্চে ভিড় জমিয়েছে প্রতিবাদীরা। পিছিয়ে নেই জেলার প্রমীলা বাহিনীও। দলে দলে সামিল হচ্ছেন যুবক থেকে বৃদ্ধ বৃদ্ধা সকলেই। প্রতিদিনই আজাদীর স্লোগানে মুখরিত হচ্ছে পাটিকবাড়ীর শাহীনবাগ।

অবস্থানের ২০ দিনে বিশিষ্টদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার সংগঠন এপিসিআর এর রাজ্য কনভেনর আব্দুস সামাদ, কবি ও সাহিত্যিক মানিক ফকির, প্রফেসর রফিকুল ইসলাম, পার্কসার্কাস শাহীনবাগের পরিচালক জিম নওয়াজ, বহরমপুর থেকে এসেছেন সমাজ কর্মী রাহুল চক্রবর্তী, জামায়াতে ইসলামী হিন্দের মুর্শিদাবাদের জেলা নাজিমা আঞ্জুয়ারা বেগম, জিআইও-র সদস্যা খাদিজা খাতুন প্রমুখ।

এতদিন পরেও প্রতিবাদ মঞ্চের ভিড়ে কোন ভাটা পড়েনি। কারণটা কি? জানতে চাওয়ায় মঞ্চের সদস্য ফিরোজ শেখ, বিশ্বজিত সাহা, শীলা চক্রবর্তী, সমীর চক্রবর্তীদের বক্তব্য, ‘এনপিআর এনআরসির বিরুদ্ধে আমরা গোটা নওদা ব্লক জুড়ে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছি। মানুষকে সচেতন করেছি। যার ফল আজ এই ২০দিনের সফল ধর্ণা। তাদের আরও বক্তব্য, কেন্দ্রের স্বৈরাচারী বিজেপি সরকার প্রবর্তিত সিএএ এনপিআর এনআরসি যতদিন না প্রত্যাহার হচ্ছে ধর্ণা কিন্তু উঠবে না।’

দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে শহীদদের অবদানের কথা উল্লেখ করে এদিন মঞ্চে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামী হিন্দের কর্মী আব্দুর রউফ। তিনি নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের নেতৃত্বের কেন্দ্র সরকারকে একহাত নিয়ে বলেন, ‘দেশে যখন দারিদ্র ক্ষুদা বাড়ছে, কর্মসংস্থান চাকরি শিক্ষা নেই, জিডিপি কমছে, মানুষের উপার্জন ক্ষমতা কমছে, সেই সব জ্বলন্ত সমস্যাগুলিকে আড়াল করতে এনআরসির গল্প ফেঁদে জনগণকে আতঙ্কিত করছে মোদি সরকার।’ তিনি বলেন, ‘সিএএ একটি বিভাজন ও বৈষম্যমূলক আইন। এই আইন দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতাকে বিনষ্ট করছে। দেশকে বিভাজনের পথে ঠেলে দিচ্ছে। আমরা অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।’
দেশাত্মবোধক গান কবিতা সংগীত আর নতুন উদ্যোমে আজাদীর স্লোগানে দিন দিন আরও উজ্জীবিত হচ্ছে পাটিকাবাড়ির শাহীনবাগ।