alcohol

টিডিএন বাংলা ডেস্ক: মগরাহাটে বিষমদকাণ্ডে মৃত্যুমিছিলের পরেও মমতা ব্যানার্জির সরকার শিক্ষা নেয়নি। তারপরেও একাধিক ঘটনা ঘটেছে। বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু এই সরকার গতানুগতিক কিছু পদক্ষেপ নিয়ে দায় সেরেছে। কখনও পুলিশ অফিসারকে সরানো, কখনও প্রশাসনের এক বা একাধিক কর্তাকে সরিয়ে দেওয়া, কিছু ক্ষতিপূরণ— এই হলো এই সরকারের পদক্ষেপ। এতোগুলো মানুষের প্রাণহানির ঘটনা নিয়ে শুক্রবার বর্ধমানের কালনায় এক সভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির হালকা চালের কথাবার্তায় তা প্রকট হয়েছে। তিনি বলেন, শান্তিপুরে কয়েকজন মারা গেছে বিষাক্ত মদ খেয়ে। আমি বুঝে পাই না, বিষাক্ত মদের কেন প্রয়োজন হয়। যাইহোক, যাঁরা মারা গেছেন তাঁদের পরিবারগুলোকে ২লক্ষ টাকা করে আমরা সাহায্য করেছি।

এদিকে সরকারের এহেন ভূমিকায় গ্রামবাসীরা নিজেরাই বিষাক্ত মদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখনও গুমরে উঠছে কান্না। সরকারের ২লক্ষ টাকার চেক হাতে পেয়ে মৃত পরিবারগুলির সদস্যদের চোখে জল। পরিবারের এক মহিলা জানিয়েছেন, যে ক্ষতি গ্রামের, সে তো হয়েছেই। এবার মদের ঠেক যদি ফের শুরু হয় তাহলে লাঠি মেরে তাঁরাই ভেঙে দেবেন। পুলিশের সাথে যোগসাজশ করে আর মদের ঠেক তাঁরা চালাতে দেবেন না।

মৃত পরিবারগুলি কার্যত অভিভাবক শূন্য হয়ে পড়েছে। ওদের পরিবারের অনেকেই জানিয়েছেন, ২লক্ষ টাকা দিয়ে কি হবে? ঘরের মানুষটাই তো চলে গেল! গৌতম শর্মা ও চন্দন মাহাতোর পরিবারকে চেক দেওয়া হয়নি। চন্দনের বিরুদ্ধে বিষাক্ত মদ বিক্রির অভিযোগ রয়েছে আর এদিন দুপুর পর্যন্ত গৌতমের বাড়ির ঠিকানা পাওয়া যায়নি।

এদিন পর্যন্ত শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ২৪জন বিষমদ খেয়ে ভর্তি রয়েছেন। হাসপাতালের সুপার ডাঃ জয়ন্ত বিশ্বাস জানিয়েছেন ৭২ঘণ্টার পর রোগীদের অবস্থা দেখে তারপর ছেড়ে দেওয়া হবে। শক্তিনগর হাসপাতালে ভর্তি সুরেশ মাহাতোকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। তার পরিস্থিতি এখনও আশঙ্কাজনক। চৌধুরিপাড়ায় ঢোকার মুখে ক্যাম্প করে রয়েছে তৃণমূলের বাহিনী। এলাকার অসামাজিক কাজের ‘পান্ডা’ বাবু করের ওপর দায়িত্ব বর্তেছে সেই বাহিনীর খাওয়া-দাওয়ার বন্দোবস্ত করা। সিভিক ভলান্টিয়ারদের খাওয়ানোর কাজও করছে বাবু। যার মদতেই চৌধুরিপাড়ায় মদের ঠেক চালাতো উত্তম মাহাতো, বিকাশ, গণেশদের মতো লোকজন ।

জেলার পুলিশসুপার রূপেশ কুমার জানিয়েছেন, চোলাই মদের কারবারি বাবলাবনের বাসিন্দা গণেশ হালদারকে পুলিশ বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনায় ধৃত আসামীদের সিআইডি হেপাজতে নিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তল্লাশি চলছে বলে সিআইডি সূত্রে জানা গেছে। কালনা ঘাট পেরিয়ে শান্তিপুরে চোলাই মদ আসার উৎস এখনও খুঁজেই চলেছে পুলিশ। আবগারির পক্ষ থেকে বর্ধমানের পুরানো ভাটিগুলিতে দুদিন ধরে হানা চলছে। নদীয়ার বিভিন্ন জায়গায় শান্তিপুরকাণ্ড ঘটার পর ঠেকগুলিতে হানা দিচ্ছে পুলিশ।