সামাউল্লাহ মল্লিক, টিডিএন বাংলা, কলকাতা : ‘দিন যায় রাত যায়, তোরই অপেক্ষায়’ – নাজীবের মায়ের বেদনার্ত কণ্ঠে বুঝি সর্বদা বাজছে এই গান। দিন, সপ্তাহ, মাস পার হলেও খোঁজ মেলেনি নিখোঁজ জেএনইউ ছাত্র নাজীব আহমেদের। দেশ জুড়ে গত বেশ কিছু দিন ধরে নাজিব কোথায় প্রশ্নে আন্দোলন করে আসছে স্টুডেন্টস ইসলামিক অর্গানাইজেশন অফ ইন্ডিয়া সহ একাধিক ছাত্র সংগঠন। তবুও বিন্দুমাত্র প্রভাব পড়েনি দিল্লি পুলিশের আধিকারিক দপ্তরে। সূত্রের খবর এসআইওর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না নাজিবকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তাই তারই অংশ হিসাবে আজ কলেজ স্কোয়ারে মানববন্ধন ও র‍্যালি করল এসআইও পশ্চিমবঙ্গ শাখা। এদিনের এই মানববন্ধনে ও র‍্যালিতে এসআইওর শতাধিক ছাত্ররা পথে পা মেলান।

এই র‍্যালি ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি থেকে শুরু হয়ে মহাত্মা গান্ধী রোড ঘুরে আবার কলেজ স্কোয়ার ফিরে আসে। এখানেই শুরু হয় মানববন্ধন।
এদিনের এই মানবন্ধন চলাকালীন উপস্থিত ছিলেন এসআইও পশ্চিমবঙ্গ শাখার রাজ্য সভাপতি ওসমান গণি, সংগঠনটির প্রাক্তন কেন্দ্রীয় পরামর্শ পরিষদের সদস্য সাদাব মাসুম, শিক্ষাঙ্গন সেক্রেটারি রামিজ রাজা, বর্তমান জেএনইউ ছাত্র আব্দুল মাতিন, ডকুমেন্টারি ফিল্ম মেকার সৌমিত্র ঘোষ দস্তিদার ও এপিসিআরের রাজ্য কনভেনর আব্দুস সামাদ প্রমুখ।
সভায় বক্ত্যব্য রাখেন সংগঠনটির ছাত্র নেতা ওসমান গনি। তিনি বলেন, “নাজিব নিখোঁজ
হওয়ার পিছনে রয়েছে এবিভিপির হাত। তাকে হুমকি এবং মারধোর করার পরের দিনই সে নিখোঁজ হল। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ সত্বেও এবিভিপির কোন কর্মীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হল না কীসের স্বার্থে ?” তিনি অবিলম্বে নাজীব আহমেদকে খুঁজে বের করতে কমিটি গঠন করে সঠিক তদন্তের দাবী জানান।
সভায় উপস্থিত অন্যান্য বক্তাদের গলায়ও দিল্লি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি ক্ষোভ ঝড়ে পড়ে। জেএনইউ ছাত্র আব্দুল মাতিন সেখানকার এবিভিপির আসল রুপ নিয়ে আলোচনা করেন।
সংগঠনটির প্রাক্তন কেন্দ্রীয় পরামর্শ পরিষদের সদস্য সাদাব মাসুম বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাজ্ঞন গুলিকেও এগিয়ে আসা দরকার নাজীব ইস্যুর আন্দোলনে। নইলে পরবর্তী নাম্বার কিন্তু আপনাদের হতে পারে।”
ফিল্ম মেকার সৌমিত্র ঘোষ দস্তিদার এই আন্দোলনের সমর্থন করে এসআইওকে ধন্যবাদ জানান।
এরপর বিকাল ৫টার সময় আবার কলকাতা বইমেলায় নাজিবকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবী জানিয়ে বইমেলা প্রাঙ্গন অবস্থান প্রতিবাদ এবং র‍্যালিতে পা মেলান সংগঠনটির নেতা – কর্মীরা।