রুসমিনা খাতুন, টিডিএন বাংলা, হাওড়া: এক বছর পার করে এলেও নোটবন্দির ঘা শুকোয়নি এখনও। আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারেননি অধিকাংশরা। তার ওপর জিএসটির ধাক্কায় তারা নাজেহাল। এমনটাই অভিযোগ ধূলাগড়ের খুচরা ব‍্যবসায়ীদের। এদের মধ্যে আছেন জরির খুচরো ও পায়কারি ব‍্যবসায়ী থেকে কম্পিউটার এমব্রয়ডারি ব‍্যবসায়ী, মুদি দোকানি থেকে সবজি ব‍্যবসায়ীরাও।
ধুলাগড় বললেই জরি শিল্পির কথা মনে আসে। খুচরা ও পায়কারি জরির মালের দোকানদার গোলাম মেহেদী সেপাই বলেন, “আগে ব‍্যবসায় যে একটা ধারাবাহিকতা ছিল, নোটবন্দির পর থেকে সেটা পুরো নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে ব‍্যবসার পরিস্থিতি তলানিতে চলে গেছে। জরির কারবারের অবস্থা খারাপ হওয়ায় আমাদের মালের দোকান আগের মতো আর চলে না। জিএসটি চাপানোর ফলে ট‍্যাক্স দিয়ে মাল কিনতে হচ্ছে, অথচ সেই মাল বেশি দামে খুব কম লোক কিনছে। এরফলে অনেক মাল দোকানে জমা হয়ে রয়েছে।” একই অভিযোগ সুজয় মাল নামে ধূলাগড়ের এক জরির ওস্তাগারের। তার বক্তব্য, “বেশি টাকায় মাল কিনছি কিন্তু সেই সমতুল্য দাম পাচ্ছি না। এই জন্য অনেক কারিগর ব‍্যবসা ছেড়ে বাধ্য হয়ে ফ‍্যাকটরিতে যেতে হচ্ছে। এভাবে চললে হয়তো আমারও পরিণতি তাই হবে।” কুশুডাঙ্গার এমব্রয়ডারি ব্যবসায়ী মেহবুব হোসেন আক্ষেপ করে জানান, “নোট বন্দির পরে কিছুটা ভালো থাকলেও জিএসটির পর অবস্থা খুবই খারাপ। ক্ষুদ্র ব‍্যবসায়ীদের বেঁচে থাকা খুবই দুস্কর। জিএসটির আগে যদি একলক্ষ টাকার কাজ হত, এখন সেটা পঞ্চাশ হাজারে দাঁড়িয়েছে। তাও পুরো পেমেন্ট পায় না। গরিবরা শখের সবজি টুকু খেতে পাচ্ছে না। কোন ব‍্যবসায়ী সুখে নেই। জানিনা পরিণতি কি হবে।” মুদি ব‍্যবসায়ী সাবির দেওয়ান সরকারের ওপর সমস্ত ক্ষোভ উপরে দিয়ে বলেন, “দেশ স্বাধীন হবার কিছু দিন পর জন্মেও আমারা এখনও পযর্ন্ত আগের অবস্থাতেই আছি, কোন স্বাধীনতা নেই। এদেশে আমাদের মতো ছোট ব‍্যবসায়িদের টাকা লুটে আম্বনি-আদানিদের কোটিপতি বানায় দেশের সরকার। গরিবদের পেটে লাথি মেরে দেশকে ডিজিটাল করছে।” তিনি আরও বলেন, “কিছু কোটিপতির মুখের দিকে তাকিয়ে শুধু দেশ চালালে হয় না, দেশ চালাতে গেলে ১২৫ কোটি ভারতীয়দের মুখের দিকে তাকাতে হবে। নোট বন্দির কোন সুফল এখনও আমারা পাইনি। নিত‍্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ওপর জিএসটি কীসের জন্য? ট্যাক্স চালু করুক না দামি গাড়ির ওপর, দামি ফ্ল্যাটের ওপর, প্লেনের ওপর। কারণ গরিব মানুষ এগুলির স্বপ্ন দেখেন না। আমাদের খেটে খাওয়ার স্বাধীনতাটুকু কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। দিন এর পর দিন আমরা শেষ হয়ে যাচ্ছি।”
জামাল মণ্ডল নামে দৈনিক সবজি ব‍্যবসায়ি জানান, “নোটবন্দির আগে ব‍্যবসার যে অবস্থানটি ছিল, ইদানিং নোটবন্দি এবং জিএসটির পর থেকে ব‍্যবসায় ঘুন ধরেছে। অনেকই দু’ হাজারের নোট দেখিয়ে সবজি নিয়ে গেলে ও টাকা শোধ করেননি। কোনোরকম ভাবে ধারের ওপর কারবার চলছে।” ধূলাগড়ের আলু ব‍্যবসায়ি জাকির মুন্সির অভিযোগ, “দেশে যদি জরির-দর্জির বড়ো ব্যবসায়ী শেষ হয়ে যায়, আমারা তো শেষ হয়ে যাব। নোটবাতিলের ভোগান্তি শুধুই আমাদের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জন্য। দিনের পর দিন জিনিসের দাম আগুন হচ্ছে, অথচ রোজের দাম বাড়ছে না। তার ওপর জিএসটির অত‍্যাচার। এভাবে আমারা শেষ হয়ে যাব।”
তবে কি এভাবেই শেষ হয়ে যাবে তাদের বেঁচে থাকার স্বাধীনতা টুকু? সমস্ত খুচরা ব‍্যবসায়িরা এই সমস্যা থেকে মুক্ত হতে চেয়ে সরকারের মুখের দিকেই চেয়ে রয়েছে। সেই ‘আচ্ছে দিনের’ অপেক্ষায়।