নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, নয়াদিল্লি : দিল্লির জামিয়া মিল্লিয়া ইসলামিয়া (জেএমআই) বিশ্ববিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থী সোমবার আরএসএস এর মুসলিম ফ্রন্টের আয়োজিত এক ইফতার পার্টি বয়কট করে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আরএসএস নেতা ইন্দিশ কুমারের উপস্থিতির বিরুদ্ধে ও প্রতিবাদ জানায়। মুসলিম জাতীয় মঞ্চ দ্বারা সংগঠিত এই  ইফতার পার্টিতে প্রধান অতিথি হিসাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল তাকে।

ছাত্রদের  অভিযোগ ছিল যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এই প্রোগ্রামটি অনুমোদিত হওয়া উচিত ছিল না কারণ এটি আরএসএস এর মুসলিম শাখা এমআরএম দ্বারা সংগঠিত হয়েছিল। আর সেই জায়গায় তারা আরএসএস নেতা ইন্দিশ কুমারকে আমন্ত্রণ জানায় যার নাম ২০০৬ সালে মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলায়, ২০০৭ সালে আজমীর ও সমজোতা এক্সপ্রেস বিস্ফোরসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী বিস্ফোরণ মামলায় জড়িত ছিল।
এদিন ছাত্রছাত্রীরা কালো পতাকা হাতে নিয়ে বিক্ষোভ দেখায়। এই ধরনের অনুষ্ঠানগুলি করে আরএসএস বিশ্ববিদ্যালয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায় যাতে হিন্দুতন্ত্রের মতাদর্শের প্রচার করতে পারে-অভিযোগ করে তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ স্কলার মীরান হায়দার বলেন, “এই অনুষ্ঠানটি হিন্দু-মুসলিম ঐক্যকে শক্তিশালী করতে হলে জামিয়া-এর উপাচার্য মন্দির, গির্জা থেকে পুরোহিত এবং কোন মসজিদের ইমামকে আমন্ত্রণ জানানো উচিত ছিল। কিন্তু আরএসএস একটি সাম্প্রদায়িক সংগঠন। আমাদের ক্যাম্পাসে ইন্দিশ কুমারের আগমন, যিনি ৪টি বোমা বিস্ফোরণের মামলায় অভিযুক্ত ছিল আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই।এই ইফতার পার্টি সংগঠিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় এমআরএমকে কিভাবে অনুমতি দিতে পারে ? তিনি প্রশ্ন তুলেন। তাদেরকে অনুমতি দেওয়ার আগে এমআরএম-এর ইতিহাস সম্পর্কে জানা উচিত ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আর এক ছাত্রী বলেন,” বিজেপি সরকারের গত তিন বছরে হায়দরাবাদ কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় বা দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে আরএসএস এর হিন্দুত্ব এজেন্ডা ছাত্রদের উপর প্রয়োগ করার চেষ্টা করেছে। এখন আরএসএস জেএমআই এর মত মুুসলিম অধ্যুসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর হস্তক্ষেপ করতে চাইছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ছাত্র বিক্ষোভের জেরে পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
এদিন একটি যৌথ প্রতিবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট নং ৭ থেকে শুরু হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা ইফতার পার্টির স্থানস্থলের কাছে যাওয়ার জন্য ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশ ছাত্রদের নিয়ন্ত্রনে আনার জন্য হালকা শক্তি প্রয়োগ করে এবং কয়েকজনকে আটক করে। পরে অনুুুুষ্ঠানটি শেষ হওয়ার পর তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
উপাচার্য অধ্যাপক তালাত আহমদের নামও প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ কার্ডে উল্লেখ করা হলেও তিনি এদিনেরঅনুষ্ঠানে যোগদান করেননি।

উল্লেখ্য,জেএমআই বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসলিম ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা বেশি। এর আগেও আরএসএস এর ছদ্মনামে বিভিন্ন মুসলিম ইস্যুতে (তিন তালাক, মুুসলিম এমপাওয়ারমেন্ট) সেমিনার করার চেষ্টা করলে ছাত্রছাত্রীরা বিক্ষোভ দেখায়।কিছুদিন আগেই বিজেপি নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী নাজমা হেপাতুল্লার নাম চ্যান্সেলর হিসাবে ঘোষনা করলে ছাত্রছাত্রীরা
গৌরিকরণ করার চেষ্টার অভিযোগে ক্যাম্পাসের ভিতর বিক্ষোভ দেখায়।⁠⁠⁠⁠