মহঃ মোস্তাক আহমেদ, টিডিএন বাংলা, মালদা: মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকের ইসলামপুর অঞ্চলের চাঁদপুর গ্রামের তারিকুল ইসলাম ডব্লিউবিসিএস পরীক্ষায় সফল হয়ে এলাকায় তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তিন ভাই ও তিন বোনের সংসারে বাবা মায়ের চতুর্থ সন্তান তারিকুল ইসলামকে নিয়ে এলাকায় এখন খুশির আবহ। চাঁদপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে এলাকারই সাগরিয়া হাই মাদ্রাসা থেকে তিনি মাধ্যমিক পাস করেন।

তারপর কলা বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে মালদার সামসি কলেজ থেকে পাসকোর্স নিয়ে স্নাতক হন। পরবর্তীতে আর স্নাতকোত্তরে ভর্তি হওয়া হয় নি। শেষমেষ বাড়ি ফিরে এলাকার কিছু ছেলেমেয়ে নিয়ে টিউশনি শুরু করেন আর বাড়িতেই বিভিন্ন কম্পিটিশন পরীক্ষার পড়া চালিয়ে যেতে থাকেন। পারিবারিক পরিস্থিতির মাঝে ২০১১ সালে বিবাহও সেরে ফেলেন। ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে সাংসারিক যুদ্ধের মাঝেও হার মানেননি তিনি।

তাঁর অদম্য ইচ্ছা তাকে এই সফলতার চরম শিখরে পৌঁছে দিয়েছে। ডব্লিউবিসিএস দেওয়ার পূর্বে তিনি দুইএক বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন কিন্তু রাজ্য সরকারের এসএসসি নিয়োগ নিয়ে গড়িমসি এবং আইনী জটিলতার বেড়াজালে আবদ্ধ না থেকে তিনি বেছে নিয়েছিলেন ডব্লিউবিসিএস এর মত চ্যালেঞ্জকে। প্রস্তুতি নিয়ে জিজ্ঞেস করলে তারিকুল ইসলাম টিডিএন বাংলাকে বলেন, “আমাদের গ্রাম বাংলার ছেলেদের মাঝে ডব্লিউবিসিএস নিয়ে অযথা অনেক ভুল ধারণা ও এক অজানা ভীতি আছে । অনেকে বলে ডব্লিউবিসিএস খুব জটিল পরীক্ষা, কোচিং ছাড়া হবে না, কলকাতায় থাকতে হবে, ইংলিশ রাইটারের বই পড়তে হবে এইসব।”

তিনি আরো জানান, আমার মতে যারা সাহস করে সঠিক সিলেবাস ধরে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাবে তারা অবশ্যই অবশ্যই সফল হবে। আমি চাই গ্রাম বাংলার ছেলেরা বেশি বেশি করে ডব্লিউবিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিক এবং সমাজ সংস্কারের দায়ভার গ্রহণ করুক।

পিতা মোজাম্মেল হক বলেন, ছেলের সফলতায় আমরা সকলেই খুব খুশি। ছেলে এলাকার গর্ব। আমি চাই আমার এলাকার আরো ছেলেমেয়েরা এই পরীক্ষায় সফল হোক। এই প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে অফিসার হওয়ায় আমার ছেলে এলাকার ছাত্র ছাত্রীদের মনে একটি অনুপ্রেরণা তৈরি করেছে। ‘ইচ্ছা থাকলেই যে উপায় হয়’ তারিকুল ইসলামের সফলতা এই লাইনের যথার্থতা প্রমান করে। প্রকৃতঅর্থে গ্রামবাংলার যে প্রতিকূলতা, তাকে মাড়িয়ে তারিকুলের এই সফলতা পরবর্তী গ্রামীন প্রজন্মের কাছে উদাহরণ হয়ে থাকবে বলেই মনে করছেন শিক্ষানুরাগীরা।