টিডিএন বাংলা ডেস্ক: আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। ১৭৮০ সালে আলিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তারই জের টেনে এবং ঐতিহ্য বহন করে বর্তমান আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবে রূপ নিয়েছে। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য যেমন একদিকে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান, দর্শন ও কলা বিষয়ে চর্চা, অন্যদিকে ইসলাম ও আরবি ভাষারও অনুশীলনও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীন ও বর্তমান পরম্পরা। এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত সাম্প্রতিক মার্কশিট দেখে অনেকেরই চোখ কপালে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ছাত্র, অধ্যাপক ও অভিভাবকরা অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কিংবা ক্রুদ্ধ হয়েছেন।

বিষয়টি হল, আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের মার্কশিটে ইংরেজি ভাষায় ‘আলিয়া ইউনিভার্সিটি’ লিখলেও মার্কশিট থেকে এবার ‘জামেয়া আলিয়া’ শব্দটি বাদ দিয়েছে। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, কারা কী কারনে আলিয়া থেকে আরবি ও ইসলামিক জ্ঞান বিজ্ঞানের পরিস্থিতি ও চর্চা তুলে দিতে চাইছেন। অনেকে বলছেন, কারণ খুবই স্পষ্ট। একটি মহল বরাবরই ইসলাম ও আরবিকে নিয়ে হীনমন্নতায় ভোগেন। আবার আরেকটি মহল খানিকটা দ্বেষ পোষণ করেন। আলিয়ার মার্কসিট থেকে ‘জামেয়া আলিয়া’ শব্দ দুটি তুলে দেওয়ার পিছনে ওদেরও উদ্যোগ থাকতে পারে। আমরা আরবি ও ইংরেজিতে লেখা এবং শুধুই ইংরেজিতে লেখা মার্কশিটের দুটি ছবি পাশাপাশি তুলে ধরছি।

এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা ছাত্র ইউনিয়নের রাজ্য সম্পাদক মুহাম্মদ রাকিব হক ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, মার্কশিটে অবিলম্বে ‘জামিয়া আলিয়া’ শব্দ দুটি আরবিতে লেখা না হলে তারা জোরদার আন্দোলন শুরু করবেন। তবে এই ঘটনা নিয়ে যতই হইচই হোক, বিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ামক অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন সোমবার পরিষ্কারভাবে জানান,মার্কশিটে আরবিতে লেখা ‘জামিয়া আলিয়া’ শব্দ তুলে দেওয়া হয়নি। কেন এমন হল, এ বিষয়টি সরস্বতী প্রেস কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। এই সঙ্গে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, যে মার্কশিটে ত্রুটি সংশোধন করে ফের পড়ুয়াদের দেওয়া হবে। (সৌজন্যে: পুবের কলম)