ছবি: গুগল

টিডিএন বাংলা ডেস্ক: টালিগঞ্জে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় গ্যারেজে বসে মদ্যপদের কটুক্তির প্রতিবাদ করতে গিয়ে মার খেলে হলো চন্দননগর পুলিশ কমিশনারের দেহরক্ষীকে। গুরুতর জখম অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার ওই কর্মীর নাম সুখসাগর সিং। চন্দননগরের পুলিশ কমিশনার অজয় কুমারের দেহরক্ষী ওই পুলিশ আধিকারিকের অভিযোগের ভিত্তিতে যাদবপুর থানার পুলিশ শনিবার দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের নাম শিবকুমার সিং আর বুবাই সামন্ত। শিবকুমার কলকাতা পুলিশের হোমগার্ড। বুবাই সামন্ত দমকলকর্মী। খোদ টালিগঞ্জ পুলিশ আবাসনের মধ্যে দশমীর রাতের এই ঘটনায় পুলিশ মহলে যথেষ্ট চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

আহত দেহরক্ষী সুখসাগর সিংয়ের অভিযোগ, ‘ওখানে নেশার আসর বসে। মেয়েদের কটুক্তি করা হয়। আমি প্রতিবাদ করছিলাম। তখনই আমাকে বেধড়ক মারা হয়। অনীশ, বুবাই, সিদ্ধার্থ ও শিবকুমাররা সেখানে ছিল। আমার গুরুতর চোট লেগেছে। আমরা পুরো বিষয়টি নিয়ে যাদবপুর থানায় অভিযোগ করেছি। পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে বিষয়টির তদন্ত করছে বলে জানি।’

এদিন পুলিশ শিবকুমার আর বুবাইকে গ্রেপ্তার করলেও এখনও অনীশকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে আবাসনের ভিতরে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় গ্যারেজে বসে মদ্যপানের ঘটনায় আবাসনের অনেককে এদিন সরব হতে দেখা গেছে। ওই আসরে নাকি ছিলেন সিদ্ধার্থ পাল, অনীশ হাঁসদা, শিবকুমার সিং এবং বুবাই সামন্ত। এদের মধ্যে অনীশ হাঁসদা কলকাতা পুলিশের সার্জেন্ট বলে জানা যাচ্ছে। ওই আবাসনের ‘টি-১৬’ নম্বর ফ্ল্যাটে থাকেন তিনি। সিদ্ধার্থ পাল প্রাক্তন এক পুলিশকর্মীর ছেলে বলে জানা গেছে। তিনি একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করেন। অন্যদিকে শিবকুমার সিং কলকাতা পুলিশের হোমগার্ড। বুবাই সামন্ত দমকল বিভাগের কর্মী হলেও বন্ধুদের ডাকে ‘দশমীর আসরে’ তিনি এসেছিলেন। পুলিশ আবাসনের মাঠের পাশে একটি খোলা গ্যারেজে বসেছিল ওই মদের আসর। ওই খোলা গ্যারেজে রাখা হয় মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ের গাড়ি।

ওই আবাসনের বাসিন্দা হরিন্দর কুমার সিং জানিয়েছেন, ‘এমন নেশার আসর নতুন নয়। প্রায়ই মদ্যপানের আসর বসে এখানে। মহিলাদের উদ্দেশে নানারকম কটুক্তিও করা হয়। গতকালও তেমনই ঘটেছিল। তারই প্রতিবাদ করতে যান সুখসাগর। তখনই অনীশ ও বুবাইরা মারধর করে তাঁকে।’ পুলিশের হাতে দুজন অভিযুক্ত ধরা পড়ার পর এদিন অনেকে সাহসে ভর করে মুখ খুলেছেন। এই ঘটনার খবর শুনে ওই আবাসনের অপর বাসিন্দা সাধনা সিং নামে এক তরুণী জানিয়েছেন, ‘আমার বোনকে বহুবার ওখান থেকে নানা কটুক্তি করা হয়েছে। হাবভাব এমন যেন পুলিশ বলে সব কিছু করতে পারে। প্রতিবাদ করতে গেলে ধর্ষণের হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। আমরা বিষয়টি জানিয়েছিলাম আবাসনের সম্পাদককে। যদিও তাতে কাজের কাজ হয়নি।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে পুলিশ আবাসনের ভেতরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল। সেখান থেকে একটু দূরে চলছিল পুলিশের কর্মী-আধিকারিকদের মদের আসর। নেশাগ্রস্ত হয়ে ওই পুলিশকর্মীরা জোরে জোরে নানা অশ্লীল কথাবার্তা বলছিল। এর প্রতিবাদ করতে গিয়েই লাঞ্ছিত হতে হয় সুখসাগর সিংকে। বেধড়ক লাথি-ঘুঁষিতে গুরুতর জখম হতে হয় পুলিশ কমিশনারের দেহরক্ষীকে। আক্রান্ত পুলিশ আধিকারিকের ছেলে ঋষিকেশ সিং জানান, ‘প্রতিবাদ করায় ওরা ঘিরে ধরে এমন মারধর করে যে, বাবা রক্তাক্ত অবস্থায় অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল। দমকলের কর্মী বুবাই সামন্ত, কলকাতা পুলিশের সার্জেন্ট অনীশ হাঁসদা, হোমগার্ড শিবকুমার সিংহ এবং প্রাক্তন এক পুলিশকর্মীর ছেলে সিদ্ধার্থ পাল এই ঘটনায় জড়িত।’

অভিযোগ, কলকাতা পুলিশের সার্জেন্ট অনীশ হাঁসদা সুখসাগরের মুখ লক্ষ্য করে লাথি মারে। কোনরকমে তাঁর বাঁ চোখটি বেঁচে যায়। তবে চোখের কোণে গুরুতর আঘাত লাগে। সেইসঙ্গে চলে বেধড়ক মারধর। আক্রান্ত দেহরক্ষী চেঁচামেচি শুরু করলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। শনিবার দুপুরে পুলিশ আবাসনে গিয়ে দেখা যায় ইতিউতি ছড়িয়ে রয়েছে মদের বোতল, গাঁজার প্যাকেট আর কাচের গ্লাস। ভেতরে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য ভাঙা কাচের টুকরো। আবাসনের বাসিন্দারা এদিন অভিযোগ করেন, ‘এত বড় একটা ঘটনার পরেও যাদবপুর থানার পুলিশ দায়সারাভাবে জামিনযোগ্য ধারায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অনীশ হাঁসদা কলকাতা পুলিশের সার্জেন্ট হওয়ায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।’ (সৌজন্যে- গণশক্তি)

Not available