টিডিএন বাংলা ডেস্ক: রাজ্যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনারোধে পুলিশ প্রশাসন পুরোপুরি ব্যর্থ, আতঙ্কিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষার জন্য ভূমিকা পালন করছেন সি পি আই (এম) কর্মীরাই। বুধবার একটি বিবৃতি দিয়ে একথা বলেছেন সি পি আই (এম)-র রাজ্য সম্পাদক সূর্য মিশ্র। খবর গণশক্তির। তিনি দাবি করেছেন, উত্তেজনাপ্রবণ এলাকাগুলিতে প্রয়োজন হলে সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হোক। সমস্ত অংশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ মানুষকে সাম্প্রদায়িক শক্তির বিপদের মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানিয়েছেন সূর্য মিশ্র।

এদিন প্রেস বিবৃতি দিয়ে মিশ্র বলেছেন, রামনবমীকে কেন্দ্র করে গত তিনদিন রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অস্ত্রসহ মিছিল হয়েছে। আসানসোল, রানিগঞ্জ, পুরুলিয়া, কান্দি, উলুবেড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় তৈরি করা হয়েছে উত্তেজনা। তিনজনের প্রাণহানি হয়েছে। অনেক গরিব, মধ্যবিত্তের সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন পুলিশকর্মীরাও। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন অনেক মানুষ। এরই মধ্যে মঙ্গলবার আসানসোল উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রামনবমীর মিছিলকে কেন্দ্র করে। প্ররোচনা সৃষ্টিকারী হিন্দুত্ববাদী শক্তি যথেচ্ছ হাঙ্গামা চালিয়েছে। আগুনও লাগিয়েছে। রাজ্যের প্রশাসন পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত কয়েকদিনের মতো আসানসোলেও পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। এই ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন আমাদের পার্টির কর্মীরা। আসানসোলে তাঁরা উত্তেজনা প্রশমন করতে, আতঙ্কিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে রাস্তায় নেমেছেন। সারারাত থেকেছেন মানুষের পাশে। অন্যত্রও আমাদের পার্টি শান্তি, সম্প্রীতি রক্ষায় ভূমিকা নিয়েছেন। অথচ রাজ্য প্রশাসনের কোনও উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। রাজ্যের শাসক দল নিজেরাই রামনবমীর মিছিল করেছেন। বিভিন্ন জায়গায় সেইসব মিছিল থেকেও হাঙ্গামা সংগঠিত হয়েছে। বি জে পি এবং তৃণমূল দলের এই ধরনের উসকানিমূলক কর্মসূচিতে প্রশাসন কোনও বাধা দিচ্ছে না। বরং সি পি আই (এম) শান্তি ও সম্প্রীতির আবেদন জানিয়ে কর্মসূচি নিলে প্রশাসন সেক্ষেত্রে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে অনুমোদন দিচ্ছে না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতিতে সি পি আই (এম) দাবি করছে, আসানসোলসহ উত্তেজনাপ্রবণ এলাকাগুলিতে আধা সামরিকবাহিনী মোতায়েন করা হোক। প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী মোতায়েনেরও উদ্যোগ নিক রাজ্য সরকার। যে সব জায়গায় হাঙ্গামা হয়েছে বা এখনও উত্তেজনা, আতঙ্ক রয়েছে, সেই সব এলাকায় উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হতে পারে, তার জন্য তৎপর হতে হবে রাজ্য সরকারকে। আমাদের পার্টি আহ্বান জানাচ্ছে যে, সকল বামপন্থী কর্মীরা ছাড়াও সমস্ত অংশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ মানুষ সাম্প্রদায়িক শক্তির এই বিপদকে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করতে এগিয়ে আসুন