টিডিএন বাংলা ডেস্ক : উলুবেড়িয়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের উদ্বোধন হতে চলেছে শুক্রবার।  রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ভিডিও কন্ফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে তার উদ্ধোধন করবেন। তার আগের দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু হল এক স্কুলছাত্রীর। রাজ্যের হাসপাতালগুলির কি হাল ? তা ফুটে উঠলো উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালের ঘটনায়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মৃত ছাত্রীর নাম মধুমিতা দাস (১৪)।  বাড়ি হাওড়ার পাঁচলা থানা এলাকার বনহরিশপুরের সামন্তীতে।  মৃতের পরিবারের অভিযোগ, প্রবল শ্বাসকষ্ট নিয়ে এদিন বিকালে উলুবেড়িয়া হাসপাতালে ভর্তি হয় মধুমিতা।  প্রায় ঘণ্টাখানেক অক্সিজেন না লাগিয়ে ছাত্রীটিকে ওয়ার্ডের মেঝেতে শুইয়ে রাখা হয়। ফলে ছাত্রীটি অক্সিজেনের অভাবে ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।  এরপরই উত্তেজিত জনতা হাসপাতালের মহিলা মেডিকেল ওয়ার্ডে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে।  যতক্ষণ না নার্সরা দোষ স্বীকার করবেন ততক্ষণ তারা এই বিক্ষোভ দেখাবেন বলে দাবি করেন।  পরে ঘটনাস্থলে আসে উলুবেড়িয়া থানার পুলিশ।  হাসপাতালে সুপারের ঘরে বসে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মেটাবার চেষ্টা করে। পরে মৃতের পরিবার হাসপাতাল সুপারকে লিখিত অভিযোগ দেয়। হাসপাতাল সুপার বিষয়টির তদন্ত হবে জানালে বিক্ষোভ উঠে যায়।

জানা গেছে, পাঁচলার নয়াচক যদুনাথ হাই স্কুলের নবম শ্রেনীর ছাত্রী মধুমিতা প্রবল শ্বাসকষ্ট ও নিমোনিয়া নিয়ে উলুবেড়িয়া হাসপাতালে ভর্তি হয়। তার আগে দু’দিন পাঁচলার গাববেড়িয়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি ছিল। সেখানে থেকে ডাক্তারবাবুরা স্থানান্তর করলে বৃহস্পতিবার বিকালে তাঁকে উলুবেড়িয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ইমারজেন্সীতে ডাক্তার বাবুরা তাঁকে ওয়ার্ড ভর্তি করে সত্ত্বর অক্সিজেন দেওয়ার কথা বলে। এরপর তাঁকে উলুবেড়িয়া হাসপাতালের মহিলা মেডিক্যাল ওয়ার্ডে আনা হয়। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, মহিলা মেডিক্যাল ওয়ার্ডে আসার পর তাঁকে প্রায় ঘন্টাখানেক মেঝেতে শুইয়ে রাখা হয়। অক্সিজেন দেওয়ার কথা বললে গড়িমসি করে কর্মরত নার্সরা। এমনকি সেলাইন চালানোর জন্য টাকা দাবি করে ওয়ার্ডের আয়ারা। এরপর বিনা চিকিৎসায় আস্তে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে মধুমিতা। তাঁর মৃত্যুর পরেই ওয়ার্ডে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে রুগীর আত্মীয়রা। পরে ঘটনাস্থলে আসে উলুবেড়িয়া থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। তাদের মধ্যস্থতায় শেষে বিক্ষোভ ওঠে।

মৃতার কাকা বুদ্ধদেব দাস জানিয়েছেন, ‘‘প্রবল শ্বাসকষ্ট নিয়ে মধুমিতাকে উলুবেড়িয়া হাসপাতালে ভর্তি করি। ইমারজেন্সী থেকে ডাক্তারবাবু সত্ত্বর অক্সিজেন দেওয়ার কথা প্রেসক্রিমসানে লিখে দেয়। কিন্তু প্রায় ঘন্টাখানেক ধরে তাঁকে মেঝেতে ফেলে রাখা হয়। কোনরকম অক্সিজেন মধুমিতাকে দেওয়া হয়নি। অথচ মাত্র পাঁচফুট দূরেই ৪টি অক্সিজেন সিলেন্ডার পড়েছিল। এমনকি সেলাইন চালানোর জন্য হাসপাতালের আয়ারা টাকার দাবি করে। নার্সদের বার বার অক্সিজেন চালানোর কথা বললে, তারা নিজেদের মধ্যেই কথাবার্তায় মশগুল ছিল। আমাদের কোন কথায় কর্ণপাত করেনি। মধুমিতা ধীরে ধীরে অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।’’ বুদ্ধদেব দাস আরো বলেন, ‘‘আমরা চাই, যাদের গফিলতির জন্য আমার ভাইঝির মৃত্যু হলো, তাদের যেন উপযুক্ত শাস্তি হয়’’।

হাসপাতালের সুপার সুদীপ রঞ্জন কাঁড়ার জানিয়েছেন, ‘‘মৃতের পরিবার আমাকে লিখিত অভিযোগ দিচ্ছে। আমি ইতিমধ্যেই সি এম ও এইচ-কে ফোনে বিষয়টি জানিয়েছি। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্ত নার্সদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হবে’’।