নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা: আমেরিকায় এক পুলিশ কর্তৃক কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের হত্যার প্রতিবাদে তুমুল বিক্ষোভ হচ্ছে। হাজার হাজার আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার, কারফিউ জারি করেও প্রতিবাদ সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। বর্ণবিদ্বেষ বিরোধী এই বিক্ষোভ আমেরিকার বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি দেশের বাইরেও বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলন হচ্ছে। এবার আমেরিকার আন্দোলনের আঁচ এসে পড়লো এদেশে। বিভিন্ন বামপন্থী সংগঠন পথে নেমেছে। আমেরিকার আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হচ্ছে রাজ্যের রাজধানী কলকাতাও। কমিউনিস্ট দল এসইউসিআই-এর পক্ষ থেকে মিছিল হয় এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কুশপুত্তলিকা দাহ করে দলটির কর্মীরা।
সোমবার ধর্মতলায় লেনিন মূর্তির কাছে সমাবেশ করে আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডকে হত্যার প্রতিবাদ হয়। উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সম্পাদক চণ্ডীদাস ভট্টাচার্য, প্রাক্তন সাংসদ তরুণ মণ্ডল প্রমুখ।
মঙ্গলবার সিপিএমের যুব ও ছাত্র সংগঠন ডিওয়াইএফআই এবং এসএফআই-এর পক্ষ থেকেও প্রতিবাদ কর্মসূচি নেওয়া হয়। আমেরিকার তথ্যকেন্দ্রের দিকে যাওয়ার পথে পার্ক স্ট্রিটের কাছে চ্যাটার্জি ইন্টারন্যাশনালের সামনে প্ল্যাকার্ড-পোস্টার নিয়ে বিক্ষোভ দেখান ওই সংগঠনগুলির কর্মী-সমর্থকেরা।
বুধবার জলপাইগুড়িতে কদমতলা মোড়ে লকডাউনের স্বাস্থ্য বিধি মেনে আমেরিকার কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার প্রতিবাদ সভা করে বামেরা।
এদিকে আমেরিকার চলমান বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে কর্মসূচি নিয়েছে একাধিক সংগঠন। কিছু সংগঠন পথে নেমে আন্দোলন করলেও বেশিরভাগ দল ও তার কর্মীরা অনলাইনে প্রতিবাদ করছেন। আবার অনেকে ব্যাক্তিগত ভাবেও কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার নিন্দা জানাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার আমেরিকার ঘটনার সঙ্গে ভারতের বিভিন্ন ইস্যুকে তুলে ধরে সোচ্চার হচ্ছে ভার্চুয়াল জগতে। গোটা ভারতবর্ষেই অনলাইনে আমেরিকার ঘটনা নিয়ে আন্দোলন হচ্ছে।

মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর আমেরিকার চলমান আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছে। তবে লকডাউনের কারণে এখনই পথে না নামলেও অনলাইনে সমর্থন দিয়ে প্রচার চালাবে। সংগঠনটি বলছে, লকডাউন উঠলেই আন্দোলন হবে। এপিডিআরের রাজ্য সহ সভাপতি রঞ্জিত শূর টিডিএন বাংলাকে জানান, আমেরিকায় যে বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলন হচ্ছে তাতে সমর্থন আছে। একই সঙ্গে ভারতবর্ষের দিকেও তাকাতে হবে। এখানকার পুলিশ কতটা জনবিরোধী সেটা আমরা দেখেছি লকডাউনের সময়ে। রাস্তায় বের হলেই শ্রমজীবী মানুষকে পুলিশ জঘন্য ভাবে পিটিয়েছে দিনের পর দিন। হাওড়ায় একজনকে তো পিটিয়ে মেরেই ফেলল। একই ছবি দেখেছি সারা দেশে। কেরল থেকে উত্তরপ্রদেশ থেকে বিহার- সর্বত্র। কোথাও কান ধরে উঠবোস, কোথাও ফ্রগজাম্প করতে বাধ্য করা। লাঠির বাড়ি, লাথি – কিল- চড় তো আছেই । একইভাবে সারাদেশে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপরও রাস্তায় রাস্তায় অত্যাচার করেছে পুলিশ। থানা লকআপে পিটিয়ে মারা তো নিত্যকার ব্যাপার। সংখ্যালঘু, দলিত, আদিবাসী তথা দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষের প্রতি পুলিশ সারাদেশেই নির্দয় আচরণ করতে অভ্যস্ত । অভিযোগ করলেও সাজা হয় না কারো। কাজেই আজ না হলে কাল পুলিশের বিরুদ্ধে এদেশের মানুষও বিদ্রোহে ফেটে পড়তেই পারে। বেশি দেরি না করে আমেরিকার ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এদেশের পুলিশের নিজেদের শোধরানোর চেষ্টা করা উচিত।”
এদিকে সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র টুইট করে বলেছেন,”পুলিশ হেফাজতে জর্জ ফ্লয়েডে-এর নৃশংস হত্যার প্রতিবাদে দুনিয়া জুড়ে বিক্ষোভ। আমেরিকার ৪০টি শহরে কারফিউ জারি ছিল রবিবার। হোয়াইট হাউসের সামনে অপ্রত্যাশিত বিক্ষোভে ট্রাম্পকে কিছুক্ষণ আন্ডারগ্রাউন্ড শেল্টারে আশ্রয় নিতে হয়।”
দলিত উদ্বাস্তু নেতা সুকৃতিরঞ্জন বিশ্বাস সোশ্যাল সাইটে জানান,আমেরিকার এক কৃষ্ণাঙ্গকে পুলিশ খুন করার প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভে সামিল মানুষের বড় অংশ শ্বেতাঙ্গ! এই দৃশ্য কবে আমরা ভারতে দেখবো?”
টুইটার, ফেসবুক সহ বিভিন্ন অনলাইনে বহু মানুষ আমেরিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে পোস্ট করেছে। নো এনআরসি মুভমেন্ট গ্রুপে সুতাপা চক্রবর্তী লিখেছেন,’যে পরিস্থিতি আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গদের তার চেয়েও খারাপ পরিস্থিতি আমাদের দেশে দলিত ,আদিবাসী এবং মুসলিমদের।’
একদিকে যেমন আমেরিকার আন্দোলনকে সমর্থন দিচ্ছে অন্যদিকে তেমনি সিএএ, এনআরসি বিরোধী আন্দোলনকারীদের গ্রেফতারি নিয়ে সরব হচ্ছেন ভারতের নাগরিক সমস্যা। দিল্লির এক সংগঠনের নেতা টিডিএন বাংলাকে জানান, অনলাইনে সিএএ-এনআরসি ও এনপিআর বিরোধী তিনদিনের সম্মেলন হবে। ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম সহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমকে ব্যবহার করা হবে।