টিডিএন বাংলা ডেস্ক: রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে আদিবাসী শিক্ষিকা জাতি বৈষম্যের শিকার হন। তাঁর ওপর আক্রমণ হয় বলে অভিযোগ। একটি বাংলা দৈনিকে এই খবর প্রকাশিত হতেই সরব জয় ভীম ইন্ডিয়া নেটওয়ার্ক। সংগঠনের তরফে পরিচালক শরদিন্দু বিশ্বাস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে প্রতিবাদপত্র পাঠিয়েছেন। তাঁরা সেখানে বলেছেন, “বাবাসাহেব আম্বেদকরের আদর্শে প্রতিষ্ঠিত এই সামজিক সংগঠন। বঞ্চিত বহুজন (এসসি, এসটি, ওবিসি ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু) সমাজের মানবাধিকার রক্ষার জন্য এই সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে চলেছে। আজ একটি বাংলা দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃণমূল পরিচালিত ছাত্র সংসদের সদস্যদের দ্বারা আদিবাসী শিক্ষিকা সরস্বতী কেরকেটার উপর জাতিবাদী আক্রমণের ঘটনা দেখে মর্মাহত হয়ে এই প্রতিবাদ পত্র পাঠালাম।‘’

এরপর তাঁরা শিক্ষিকার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্রতিবাদপত্রে বলা হয়েছে, দপ্তরের মধ্যেই তাঁকে হেনস্থা করা হয়েছে। তিনি হাড় ক্ষয়ে যাওয়া রোগী জেনেও তিন ঘণ্টার উপরে তাঁকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। এই দীর্ঘ সময় তাঁকে জলস্পর্শ পর্যন্ত করেতে দেওয়া হয়নি। উল্টে তাঁর দিকে জলের বোতল ছুড়ে মারা হয়েছে! তাঁকে ফাঁসানোর জন্য ছাত্র সংসদের তরফ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে এবং তাঁর বাড়ি পর্যন্ত ধাওয়া করা হয়েছে। এই সমস্ত অত্যাচারই এসসি এসটি (প্রিভেনশন অফ অ্যাট্রিসিটি) আইন ১৯৮৯ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এই প্রসঙ্গে তাঁরা অতীতের কিছু ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। প্রতিবাদপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, এই জাতি বিদ্বেষের জন্যই আমরা রোহিতকে হারিয়েছি। ২০১৫ সালে এই জাতিবাদী উৎপীড়নের জন্যই মহিতোষ মণ্ডল প্রেসিডেন্সী কলেজ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। গত ২২শে মে, ২০১৯ এই জাতিবাদী অত্যাচারের জন্যই আদিবাসী ডঃ পায়েল তড়ভি আত্মঘাতী হতে বাধ্য হয়েছেন। এরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে আর না হয়, তার আবেদন করা হয়েছে এই প্রতিবাদপত্রে। সঙ্গে বলা হয়েছে, অবিলম্বে এই ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হোক।