নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা : রাম নবমী নিয়ে রাজ্য জুড়ে তর্ক চলছে। এরই মধ্যে ফেসবুকে নিজের মন্তব্য জানালেন তৃণমূল সাংসদ কুনাল ঘোষ। তিনি লিখেছেন, “এটা বাস্তব যে বাংলায় রামচন্দ্রকে সম্মান করেন সবাই, কিন্তু রামকে ঘিরে উৎসব উচ্ছ্বাসের সংস্কৃতি ছিল না। আমি একবারও বলছি না এটা খারাপ। শুধু বলছি রামনামে মাতামাতি আগে সেভাবে ছিল না। হিন্দু বাঙালি যে কোনও কারণেই হোক দুর্গাপুজো, কালীপুজো, লক্ষ্মীপুজো, সরস্বতীপুজো, শিবরাত্রি, বিশ্বকর্মাপুজো, জগদ্ধাত্রীপুজো, কৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর মত উৎসবকে প্রাধান্য দিলেও রামনামে সেভাবে উৎসবের সার্বিকতায় রাস্তায় নামে নি।” কুনাল ঘোষ আরও লেখেন, “বিজেপি এই রামনবমী নিয়ে গতবছর হইহই করে নামতেই এবার পাল্লা দিয়ে তৃণমূল নামল। এতে হয়ত রাম ইস্যুটিকে একা বিজেপির হাতে থাকতে দেওয়া হল না আপাতদৃষ্টিতে। কিন্তু রামের আবেগ বাড়াতে ও প্রচারে বিজেপির রাজনৈতিক উদ্দেশ্যসাধন হয়ে গেল। রাম বিজেপির একার না। কিন্তু, রামের নামে সবাইকে নামানোর কৃতিত্বটা বিজেপির একার হয়ে গেল। তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক ও সনাতনী বঙ্গীয় ভোটব্যাঙ্ক এই পাল্লা দেওয়ার রাজনীতিতে সন্তুষ্ট নাও হতে পারে। জীবনধারণের অন্য ইস্যু বা কেন্দ্র-রাজ্য পারফরমেন্সের লড়াই ছেড়ে রামনবমী পালনের প্রতিযোগিতা আদৌ সুস্থ কিনা, ভাবা উচিত। রামচন্দ্রকে কেউ অসম্মান করুন বা রামকে যাঁরা পুজো করতে চান, তাদের আবেগে কেউ আঘাত করুন, আমি চাই না। যে যার বিশ্বাস নিয়ে থাকুন। কিন্তু রামকে সামনে রেখে রাজনীতি, পাল্টা রাজনীতিতে আমি সহমত নই। রামকে যদি হিন্দুত্বের প্রতীক ধরতে হয়, তাহলে সীতার প্রতি রামের শেষদিকের আচরণকে বধূনির্যাতনের সঙ্গে তুলনাটাও চলে আসা উচিত। রাজনীতি হোক রাজনীতির ইস্যুতে। ধর্ম থাকুক ধর্মে। রাজনীতির দাদাদিদিরা যেভাবে হঠাৎ রাম নিয়ে মিছিল বা ফেস বুক পোস্টে নেমেছেন, তা রাজনীতির পক্ষে সুস্থ বলে আমি মনে করি না। হিন্দুদের আবেগ, সমস্যা, বক্তব্য থাকতেই পারে। কিন্তু রামচন্দ্রকে যে পরিকল্পনায়, পদ্ধতিতে ও কৌশলে ব্যবহার করা হচ্ছে, তাতে এই সমস্যার সমাধান হবে, নাকি আমাদের সামাজিক সমস্যা বাড়বে, বিভ্রান্তি থাকছে। রাজনীতিটা রামকেন্দ্রিক হলে ভালো হবে, নাকি রোটি-কাপড়া-মাকান কেন্দ্রিক হলে ভালো হবে, এই বিচার করা জরুরি।” তাঁর আরও মন্তব্য, “রাম থাকুন রামের সম্মানে। রামরাজত্বের সুদিন লক্ষ্য হোক। রামের হিন্দুত্ব অনুভূত হোক সগর্বে। কিন্তু, রাস্তায় রামকে নিয়ে রাজনৈতিক দলের টানাটানি যে বড়ই পীড়াদায়ক লাগছে।