টিডিএন বাংলা ডেস্ক: মারণ করোনার থাবায় জড়সড় গোটা বিশ্ব। করোনা আতঙ্কে কাঁপছে ভারতও। দেশে হু হু করে বেড়েই চলেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। রবিবার পর্যন্ত দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আট-এ। আক্রান্ত বেড়ে ৩৬০ এ ঠেকেছে। আর কারনেই গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী করোনা সতর্কতা রবিবার দেশজুড়ে ‘জনতার কার্ফু পালনের ডাক দেন। এমনকি কোনও জমায়েত বা অনুষ্ঠান দূর অস্ত্, বাড়ির বাইরে কাউকে না-বেরনোর ‘পরামর্শ’ দিয়েছেন তিনি। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে দেশবাসী রবিবার ‘জনতার কার্ফু পালন করেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর করোনা সতর্কতার বার্তা অগ্রাহ্য করলেন তাঁর নিজের দলের নেতা-কর্মীরাই। শুক্রবার তারকেশ্বরে বিজেপির জমায়েত ঘিরে তাই প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।

তৃণমূলের প্রশ্ন, যেখানে করোনা সতর্কতা হিসেবে রাজ‍্য ও কেন্দ্র জমায়েতের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, সেখানে লক্ষ্মণকুঠি এলাকায় বিজেপির রাজ্য সম্পাদক সায়ন্তন বসুর উপস্থিতিতে রাজনৈতিক কর্মিসভা, বিজেপিতে যোগদান পর্ব, মাস্ক বিলি অনুষ্ঠানে শতাধিক মানুষের জমায়েত সরাসরি নিয়ম লঙ্ঘন।

এ দিন তারকেশ্বর ব্লক গ্রামীণ হাসপাতাল সংলগ্ন একটি বেসরকারি ভবনে সায়ন্তন এবং বিজেপির আরামবাগ জেলা সাংগঠনিক সভাপতি বিমান ঘোষের নেতৃত্বে করোনা ভাইরাসের সচেতনতা প্রচারের পাশাপাশি মাস্ক বিলি করা হয়। বিমান বলেন, ‘তারকেশ্বরের টোটো ইউনিয়নের ৮০ জন চালক আমাদের সঙ্গে এসেছেন। পাশাপাশি, তারকেশ্বর পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড এলাকা থেকে ২০ জন তৃণমূল কর্মী এসেছেন আমাদের সঙ্গে।’

বিমানের কথায়, ‘আমরা মাস্ক বিতরণ করেছি। সাবান দিয়ে হাত ধোওয়া এবং অন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা বলেছি। কোথাও কোনও জমায়েত ছিল না।’ সায়ন্তন বলেন, ‘কোনও জমায়েত হয়নি। রামনবমী পুজোর মধ‍্যে যদি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় তবে আমরা মিছিলে অংশগ্রহণ করব, না-হলে মিছিল পরে হবে।’

যদিও এই বিষয়ে বিজেপির সাফাই, প্রধানমন্ত্রীর ‘জনতা কার্ফু’ কর্মসূচির প্রচারের জন‍্যই কিছু মানুষকে নিয়ে সভা করা হয়েছে। তবে অনেকে নিজেরাই উৎসাহী চলে এসেছিলেন কিছুক্ষণের জন‍্যে। ফলে সংখ্যা বেশি হয়ে গিয়েছে। বিজেপির এক নেতা বলেন, ‘সভায় ৫০-৬০ জনের মতো ছিলেন। আমরা ২৫ জনকে নিয়ে মিটিং করতে এসেছিলাম। পরে সংখ‍্যাটা বেড়ে যায়। এটা অনিচ্ছাকৃত। কেউ এসে গেলে, করার কী আছে?’

তারকেশ্বর পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন সামন্ত এ দিন বলেন, ‘বিজেপি দায়িত্বজ্ঞানহীন দল। এরা মানুষের কথা ভাবে না। যেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে জমায়েত নিষেধ করেছেন, সেখানে সংকীর্ণ রাজনীতি করছেন রাজ্যের বিজেপি নেতারা। আমরা ওঁদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করব।’