কৌশিক সালুই, টিডিএন বাংলা, বীরভূম : লাভপুরের বিজেপি নেতার মেয়ের অপহরণের ঘটনায় নিল চাঞ্চল্যকর মোড়। বাবার বিরুদ্ধেই উঠলো মেয়েকে অপহরণ করানোর অভিযোগ। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাবা সহ আরও দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে মেয়েটিকে। এদিকে বিজেপির দাবি তৃণমূল নেতৃত্বকে আড়াল করতেই পুরো ঘটনা সাজিয়েছে পুলিশ এবং শাসক দল। অন্যদিকে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছে বিষয়টি আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছিলাম যে বাবা মেয়ের নাটক।

বিজেপি নেতা সুপ্রভাত বটব্যাল এর মেয়ে প্রথমার অপহরণের ঘটনায় বাবা সহ আরো দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃত ব্যক্তিরা হলেন রাজু বটুক সরকার এবং দীপঙ্কর মণ্ডল। রাজু পেশায় রাজমিস্ত্রি এবং দীপঙ্কর গ্রিল মিস্ত্রী। দুইজনের বাড়ি দার্জিলিং জেলার নকশালবাড়ি থানার দক্ষিণ রথখোলা। রবিবার সকালে ডালখোলা রেল স্টেশন এর কাছ থেকে দুই দুষ্কৃতী সহ প্রথমা কে উদ্ধার করা হয়েছে।

অন্যদিকে গত শনিবার লাভপুরের বিধায়ক মনিরুল ইসলামকে নিগ্রহের ঘটনায় ১২জন বিজেপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন হলেন দেবাশিস ওঝা। অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার বোলপুর তন্ময় সরকার বলেন, প্রথমার বাবা সুপ্রভাত বটব্যাল এলাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করার জন্য এবং তার বিরোধী রাজনৈতিক দলকে বদনাম করার জন্য মেয়েকে অপহরণের নাটক করেছে। পাশাপাশি তিনি অন্য একটি মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন সেই মামলা থেকে নজর ঘোরানোর জন্য এই ঘটনাটি করেছেন তিনি।

সুপ্রভাত বাবুর সঙ্গে ১৩ই ফেব্রুয়ারি বোলপুরে ধৃত দুই জনের সঙ্গে বৈঠক হয়। রাজু এবং দীপঙ্কর দুজনেই ওই পরিবারের এবং প্রথমার পূর্ব পরিচিত এবং তাদের বাড়ি যাওয়া আশা রয়েছে। সুপ্রভাত রাজনৈতিক জীবনে প্রথম দিকে নকশাল আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে তিনি সিপিএম এর সক্রিয় সদস্য। সম্প্রতি তিনি বিজেপির হাত ধরে ছিলেন এবং জেলার তিনি এক পদাধিকারী হন। ধৃত দুই জনকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের এই যোগসাজশ সম্পূর্ণ খোলাসা হয়েছে।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি রাত্রে অপহরণের পর থেকেই আমরা তিনটি পুলিশের তদন্তকারী দল তৈরি করে গোটা রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর শুরু করি এবং রবিবার সকালে আমরা মেয়েটিকে উদ্ধার করতে সমর্থ হই। সোমবার ধৃতদের এবং মেয়েটিকে আদালতে হাজির করানো হবে। আমরা তদন্তের প্রথম থেকেই দেখেছিলাম অপহরণ হওয়ার সময় দুষ্কৃতীদের সেভাবে বাধা দেয়া উচিত সেই ভাবে পরিবার বা মেয়েটি বাধা দেয়নি। পাশাপাশি মেয়েটির বাবার ফোন থেকে ফোন নাম্বার ঘেঁটে এই যোগসুত্র উদ্ধার হয়”।

স্থানীয় লাভপুর বিধায়ক মনিরুল ইসলাম বলেন, পুলিশকে ধন্যবাদ। আইন আইনের পথেই চলবে।
বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল বলেন, আমি প্রথম থেকেই বলে আসছি লাম বাবা মেয়ের নাটক সেটা প্রমাণিত হলো। তবে একটা জিনিষ খুব খারাপ লাগছে বাবা হয়ে নিজের মেয়েকে এভাবে ব্যবহার করা খুবই বাজে ব্যাপার।

বীরভূম জেলা বিজেপি সভাপতি রামকৃষ্ণ রায় বলেন, গোটা ঘটনায় তৃণমূলের নেতৃত্ব কে আড়াল করার জন্য এভাবে বাবাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা ওই পরিবারের পাশে আছি। এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই আমরা করব।