ইবনে খালদুম, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ : মুর্শিদাবাদের খেটে খাওয়া বিড়ি শ্রমিকদের রাজধানী নামে পরিচিত জঙ্গিপুর মহুকুমা। এই মহুকুমার ফারাক্কা, সামশেরগঞ্জ, সুতি ব্লকের প্রত্যেকটি পরিবার বিড়ির সাথে যুক্ত। জেলায় কোনো শিল্প কলকারখানা না থাকায় মহিলাদের সাথে সাথে বাড়ির পুরুষরাও এই বিড়ির সাথে যুক্ত। বিড়ি শ্রমিকদের অসংগঠিত শ্রমিক হিসাবে ৬০ বছর বয়স পূর্ন হওয়ার পর নিজেদের দীর্ঘদিন থেকে জমানো পিএফ থেকে পেনশন ভাতা পান। সেই প্রভিডেন্ট ফান্ডের অফিস মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর মহুকুমার উমরপুরের ৩৪ নং জাতীয় সড়ক সংলগ্ন মঙ্গলজোনের কাছে রয়েছে। যেখানে সামশেরগঞ্জ, ফারাক্কা, সুতি এলাকা থেকে হাজার হাজার মহিলা নিত্যদিন তাদের বিভিন্ন কাজের জন্য পিএফ অফিসে এসে ২ ঘন্টার মধ্যে কাজ করে যেতে পারেন। কিন্তু সেই অফিস জঙ্গিপুর থেকে বহরমপুরে নিয়ে যাওয়ার একটা চক্রান্ত চলছে, যার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই পথে নেমেছে রাজনৈতিক থেকে সামাজিক দলগুলো।

বহরমপুরে পিএফ অফিস নিয়ে গেলে লক্ষ লক্ষ মানুষের বেকায়দায় পড়ার কথা মাথায় রেখে জঙ্গিপুরের সাংসদ অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুন জেটলিকে চিঠি দিয়েছেন। পিএফ অফিস বহরমপুরে নিয়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলনের হুশিয়ারিও দিয়েছেন এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক বিধায়ক মইনুল হক, দক্ষিন মালদার সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরি। অন্যদিকে সিপিআইএমের পক্ষ থেকেও পিএফ অফিস অন্যত্র সরানোর তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে। সিপিএমের মুর্শিদাবাদ জেলা সম্পাদক মৃগাঙ্ক ভট্টাচার্য টিডিএন বাংলাকে জানান, আমরা সাধারণ মানুষের কথা ভেবে জঙ্গিপুর থেকে পিএফ অফিস অন্যত্র স্থানান্তরিত হওয়ার বিপক্ষে। কোনো মতেই এখান থেকে পিএফ অফিস যেতে দেওয়া হবে না।

আবার জঙ্গিপুর থেকে পিএফ অফিস সরানোর কেন্দ্রীয় সরকারের চক্রান্ততে ক্ষুব্ধ রাজ্যের শ্রম প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন। তিনি টিডিএন বাংলাকে বলেন, জঙ্গিপুরের পি এফ যেন অন্যত্র স্থানান্তরিত করা না হয় এজন্য আমরা মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হবো।

শুধু কংগ্রেস, সিপিএম বা তৃনমূলই নয় বিড়ি শ্রমিকদের মুল ঘাটি জঙ্গিপুর থেকে পিএফ অফিস সরানোর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন ওয়েলফেয়ার পার্টি অফ ইন্ডিয়া এবং সোসাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়াও। ওয়েলফেয়ার পার্টির জেলা সহ সভাপতি মাস্টার মাহফুজুর রহমান জানান, জেলার সব থেকে বিড়ি শ্রমিকের বসবাসের এলাকা থেকে পিএফ অফিস সরিয়ে দেওয়া অত্যান্ত দুর্ভাগ্যজনক।এমনিতেই তো জঙ্গিপুরে এই পি এফ অফিসে এসে বিড়ি শ্রমিকরা বারবার কাজের জন্য ঘুরে যন, আবার এই অফিস বহরমপুরে চলে গেলে ফারাক্কা, সামশেরগঞ্জ থেকে ১০০ কিমি দুরত্বে গিয়ে একদিনেই পিএফ অফিস থেকে কাজ সম্পন্ন করে আসতে পারবেন না। আমরা পিএফ অথরিটির এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে খুব শীঘ্রই পিএফ অফিসে ডেপুটেশন সহ জোরালো আন্দোলনে নামছি।