টিডিএন বাংলা ডেস্ক: ভাটপাড়া বিধানসভার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তৃণমূলের মদন মিত্র আর বিজেপি’র অর্জুন সিং’র লড়াই সাম্প্রদায়িক চেহারায় নিয়ে যেতে চাইছে। এ লড়াই এখুনি বন্ধ হওয়া দরকার। কে কত বড় বাহুবলি তা প্রমাণ করতে গিয়ে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত। মাধ্যমিকের রেজাল্ট বেরিয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীরা ভয়ে স্কুলে যেতে পারছে না। ট্রেন চলছে অনিয়মিত। বাস চলাচল বন্ধ। চলছে টা কী? প্রশাসন দু’দলের সংঘর্ষ মেটাতে ব্যর্থ।তৃণমূল বিজেপি’র সংঘর্ষে বোমাবাজি ও গুলিতে আতঙ্কিত এলাকার মানুষ। জেলা শাসককে বলেছি প্রয়োজনে সেনা নামান।ভয়ানক বিপজ্জনক জায়গায় এই ঘটনা চলে গেছে। এই ঘটে যাওয়া ঘটনায় জেরবার শিল্পাঞ্চলের সাধারণ মানুষ। অনেক ক্ষেত্রে তাঁরা হয় ঘর বন্দি না হয় ঘর ছাড়তে শুরু করেছেন। রাস্তাঘাট ফাঁকা। যানচলাচল বন্ধ। জনজীবনের উপর এর প্রভাব পড়ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করুন।প্রয়োজনে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করুন।জেলা শাসকের পাশাপাশি এই ঘটনা রাজ্যের মুখ্য সচিব,পুলিশ কমিশনারকে জানানো হয়েছে। রাজ্যসরকারের হস্তক্ষেপও দাবি করা হয়েছে। মঙ্গলবার বারাসতে জেলা শাসকের সাথে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের একথাগুলি বলেন সিপিআই( এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী।

ভাটপাড়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ঘটে যাওয়া ঘটনা আর যাতে বাড়তে না পারে সেই দাবিতে মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনার জেলা শাসক অন্তরা আচার্যের কাছে যান সিপিআই (এম)’র এক প্রতিনিধিদল।প্রতিনিধিদলে ছিলেন সুজন চক্রবর্তী ছাড়াও জেলা পার্টির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক পলাশ দাশ, নেপালদেব ভট্টাচার্য, সুভাষ মুখার্জি, গার্গি চাটার্জি, মানস মুখার্জি ও তন্ময় ভট্টাচার্য।

এদিন সুজন চক্রবর্তী বলেন, জেলা শাসককে বলেছি গত সোমবার থেকে ভাটপাড়া,জগদ্দল কাঁকিনাড়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তৃণমূল ও বিজেপি’র বোমাবাজি ও গুলি এলাকাগুলিতে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। দু’দলের দুষ্কৃতীরা প্রকাশ্যে বোমা,পিস্তল, সোর্ড নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। দুষ্কৃতীরা বেশ কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর করেছে। বাড়ির আসবাবপত্রের ব্যাপক ক্ষতি করেছে। দুষ্কৃতীদের ছোঁড়া গুলি ও বোমায় বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষ গুরুতর আহত হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এখনও এই সমস্ত এলাকায় দুষ্কৃতীরা জড়ো হয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার স্বার্থে গুজব ছড়িয়ে আরো উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করে চলেছে। এই ঘটনা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। একে বাড়তে দেওয়া যাবে না। প্রশাসন কে সতর্ক থেকে এই ঘটনার মোকাবিলা করতে হবে।প্রয়োজনে প্রশাসন নিরপেক্ষ থেকে আরো কড়া ব্যবস্থা নিক, গ্রেপ্তার করুক। গণশক্তি