মহবুল হক, টিডিএন বাংলা, মালদা:  আবারও রেজাল্ট কেলেঙ্কারিতে নাম জড়ালো গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের। এবারের ফোকাস বিএড পরীক্ষার ফলাফল। সপ্তাহ দুয়েক আগেই বিএড  পরীক্ষার মার্কশিট ফাঁস নিয়ে  তোলপাড় হয়েছে গোটা রাজ্য। ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখ পুড়েছে। কিন্তু তাতে যে খুব একটা হুঁশ ফেরেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সেটা বিএড ছাত্রছাত্রীদের আক্কেল গুড়ুম করে দেওয়া মার্কশিট দেখে আবার ধরা পড়েছে।
গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ সিদরা বিএড কলেজের তৃতীয় সেমিস্টারের ছাত্র মুস্তাফিজুর রহমান (রোল ৪৮১৬৬০ নং ০০৮৪) দ্বিতীয় সেমিস্টারে ‘১.২.৮ক’ থিয়োরি পেপারে সফল হতে পারেনি । তাই ওই পেপারটিতে পুনরায় পরীক্ষা দেয় সে। নানা বিতর্ক পেরিয়ে সম্প্রতি বিএড রেজাল্ট বেরোলেও মাথায় হাত মুস্তাফিজুরের। এবারেও পেপারটিতে তাকে অসফল দেখানো হয়েছে।
একটি পেপারে অসফল এই বিষয়টিকে নিছকই দুর্ভাগ্য বলে মেনেও নিতেন মুস্তাফিজুর। কিন্তু মার্কশিটের বাকি অংশ দেখে মাথায় রীতিমতো বাজ পড়েছে তার। চোখ কপালে উঠেছে সহপাঠী ও শিক্ষকদেরও। ওই মার্কশিটে দ্বিতীয় সেমিস্টারের পেপার ১.২.৩ (লার্নিং অ্যান্ড টিচিং) এও অসফল দেখানো হয়েছে তাকে।
মুস্তাফিজুর আশ্চর্য হয়ে প্রশ্ন করেছে “আমি ওই পেপারে পরীক্ষাই দিইনি, অথচ বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে অসফল দেখালো কী করে? ওই পেপারে পাশ করেই তো আমি তৃতীয় সেমিস্টারে পড়ছি। দ্বিতীয় সেমিস্টারে অসফল হয়েছিলাম আমি শুধু
 ‘১.২.৮ক’ পেপারটিতেই ।”
ওই একই কলেজের বুলবুল রহমান, মিয়ারুল হকরাও মুস্তাফিজুরের মত অসহায় বোধ করছেন । তাদেরও মার্কশিটে একই রকমভাবে পাশ  করা বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফেল দেখিয়েছে। রহমানিয়া বিএড কলেজের চতুর্থ সেমিস্টারের এক ছাত্র বিপ্লব ঘোষও (রোল ৪৭১৬৬০ নং ০০৪৫) নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রবল অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। এক্ষেত্রেও কাঠগড়ায় গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১.৪.১১এফ যোগা এডুকেশন থিয়োরি পেপারে তাকে শূন্য দিয়েছে বলে তার অভিযোগ। এমন মার্কশিট নিয়ে চাকরির পরীক্ষায় বসতে সুযোগ  পাবে না, সেটা ভেবেই হতাশ তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের খামখেয়ালীপনার এখানেই শেষ নয়। বাস্তবে যে পুনর্মূল্যায়নের আবেদনই জানাননি এমনও পরীক্ষার্থীর নম্বর বাড়ার ঘটনাও ঘটেছে।এনিয়ে প্রত্যেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কন্ট্রোলার সেকশনে যোগাযোগ করেছেন। সেখানেও তাদের হতাশ হতে হয়েছে বলে দাবি পড়ুয়াদের। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দেখছি দেখব বলে অযথা তাদের হয়রান করানো হচ্ছে।
পড়ুয়ারা বলছেন সময়মতো বিএড এর মার্কশিট না পেলে তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। যদিও এক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকরা  অভিযোগ নিয়ে দায়সারা মনোভাব দেখিয়েছেন বলেই দাবী পড়ুয়াদের। কখনও বলছেন প্রিন্টিং এর ভুল কখনও বা অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে দোষ ঢাকবার চেষ্টা করে চলেছেন বলে অভিযোগ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সদিচ্ছা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে । এমন গুরুতর বিষয় নিয়ে উপাচার্যের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে ছাত্র ছাত্রীরা।