টিডিএন বাংলা ডেস্ক : কেন্দ্রের নীতি এবং রাজ্যের সিদ্ধান্তে ছোট ও মাঝারি প্রকাশনার অবস্থা বেশ খারাপ। বৃহস্পতিবারে বইমেলায় এমনই ছাপ স্পষ্ট ফুটে উঠল। এদিন বিকালে কার্যত ফাঁকা বইমেলার অধিকাংশ স্টল। হেঁকে হেঁকে পাঠকদের স্টলে ঢোকাতে হচ্ছে এমন ঘটনাও চোখে পড়ল এবার। বই বিক্রি কমেছে ৪৩তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায়। বইয়ের ওপর জিএসটি নেই। কিন্তু বই তৈরির কাগজ, ছাপানো, বাঁধানোতে রয়েছে জিএসটি’র কোপ। যার জেরে ২০০ টাকার বই হচ্ছে ২৫০ টাকায়। মাঝারি এবং ছোট প্রকাশনা সংস্থা তার ওপর দিতে পারছেন না বিশেষ ছাড়। আর এতেই বিমুখ হচ্ছেন ক্রেতারা। অন্যদিকে, গতবছরই মিলন মেলা থেকে সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বইমেলা। শহরের এক প্রান্তে বইমেলায় সরানোর ফলে ভিড়ও হচ্ছে কম। বড় থেকে ছোট, সব প্রকাশনা সংস্থার আক্ষেপ, গতবছর যা মানুষ এসেছিলেন তার ৪০ শতাংশ কমে গিয়েছে এবার। ফলে বিক্রি যা হওয়ার কথা তা হচ্ছে না। কলকাতার এক প্রকাশনা সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘‘ময়দানের পর মিলন মেলায় বইমেলা হতো। কিন্তু তা ছিল কলকাতার প্রাণকেন্দ্রেই।

সল্টলেকে বইমেলা নিয়ে এসেছে এই সরকার। যেখানে যাতায়াত করাটাই একটা বড় সমস্যা। এই সিদ্ধান্তে প্রকাশনা সংস্থা থেকে পাঠক কারোর কোনও সুবিধাই হচ্ছে না। উপরন্তু গতবছরের তুলনায় এবারের পাঠকও অনেক কম। সপ্তাহের দিনগুলিতে গড়ে পাঁচ থেকে ছ’টা বই বিক্রি হচ্ছে। শনি-রবিবার সেটা খুব বেশি হলে দশ থেকে বারোটা। যে কয়েকজন আসছেন তাঁরাও যে বই কিনছেন তা বলা যায় না।’’ এদিন অন্য একটি প্রকাশনা সংস্থার সম্পাদক জানান, ‘‘মাত্র কয়েক বছরের সংস্থা। যাতায়াতের অসুবিধার কারণে লোকজন এবার কম। এর মধ্যেই জিএসটি’র বোঝা। কাগজ কেনা থেকে বাঁধানো সব কিছুতেই জিএসটি দিতে হয়েছে। তাতে বেড়েছে বইয়ের দাম। সেটা পাঠককে বোঝানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দাম জেনেই বিমুখ হচ্ছেন। প্রতিদিন দুপুর বারটায় মেলার গেট খুলছে, বন্ধ হচ্ছে আটটায়। কিন্তু সাড়ে ছ’টা-সাতটা বাজতে না বাজতেই লোকজন কম যায়।’’

দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুর থেকে সপরিবারে বইমেলায় এসেছিলেন সুদীপ দাস। কিন্তু সাড়ে ছ’টা নাগাদই রওনা হলেন বাড়ির উদ্দেশ্যে। পেশায় চাকরিজীবী সুদীপের কথায়, ‘‘বইমেলার প্রাণ নির্ভর করে পরিবেশের ওপর। দূরত্ব এবং বইয়ের দাম জেনে বই কেনার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি।’’ আইটি সেক্টরে কর্মরত সুরঞ্জনা চৌধুরি জানান, ‘‘ অফিসের কাছাকাছি হওয়ায় তিন দিন বইমেলায় এসেছি। তবে বই কেনা হয়নি।’’ এদিন ৪৩তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় উপস্থিত হয়েছিলেন বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী। তিনি ছাত্রসংগ্রাম, যুবশক্তি, ন্যাশনাল বুক এজেন্সি সহ বেশ কয়েকটি স্টল ঘুরে দেখেন। গণশক্তি