প্রশান্ত দাস, টিডিএন বাংলা, মালদা: গ্রামের পরিবেশ ফুটিয়ে তুলতে চলেছে মালদা শহরের দক্ষিণ বালুচর এলাকার কল্যাণ সমিতি ক্লাবের পূজো মন্ডপ। ‌পুজো মন্ডবে ঢুকলেই মিলবে বুক ভরে মুক্ত অক্সিজেন।‌ আর তাতেই নিজেকে ফুরফুরে করে তোলার সুযোগ পাবেন দর্শনার্থীরা। কল্যান সমিতির পূজা মন্ডপটি একটি গ্রাম্য পরিবেশ যেন তুলে এনে বসানো হয়েছে। উদ্যোক্তরা পরিবেশটাই পাল্টে ফেলেছেন। কী নেই সেখানে, একটি আদর্শ গ্রামে যা যা থাকার কথা, তার থেকেও আরও বাড়তি কিছু দেখা মিলবে এই গ্রামে।

গ্রামের নাম কল্যাণপল্লি। গ্রামের মাঝেই জল জ্যান্ত একটি পুকুর। তাতে দেখা যাবে হাঁসের সারি। পুজো কমিটির সম্পাদক অমিতাভ শেঠ জানিয়েছেন , জীবন্ত হাঁসগুলিকে মাস দেড়েক ধরে এখানেই রাখা হয়েছে, যাতে তারা সহজে পোষ মানতে পারে। এখন বেশ পোষও মেনে গেছে তারা।’‌ একটু দূরেই রয়েছে বড়ো জলাশয়, তাতে ফুটে রয়েছে কমল যা আমাদের কাছে পদ্ম নামে পরিচিত। জলাশয়ের ধার ঘেঁসে ছুঁয়ে রয়েছে সবুজ ক্ষেত। রয়েছে মরশুমে ধান।

এখন ধান ফোঁটার অপেক্ষায়। মেঠো পথ আঁকাবাকা গ্রাম্য রাস্তা। চলেছে পাকা রাস্তার সন্ধানে। গ্রামীন বধূরা দাঁড়িয়ে রয়েছে কৃষ্ণচূড়ার ছায়ায়। কোমরে রয়েছে তাদের কলসি। শিশুর দলের ছবি, হাতে তাদের খেলনা। সবই মডেলের মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে। রয়েছে গ্রামীণ পুলিশ ফাঁড়ি, একটি উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্র, প্রাথমিক স্কুল। রয়েছে বেশ কিছু কুঁড়ে ঘর। চায়ের দোকান, সেখানে কাজের শেষে অবসরের বিনোদনের মানুষ। চাষির ঘরের বারান্দায় ধূমপানরত প্রৌঢ়, তার কোলে পরিবারের নাতি ও নাতনি। গ্রামের বধূদেদের ঢেঁকিতে ধান ভানার দৃশ্যও। ছাউনি ঘরে বেয়ে উঠেছে লতানো কুমড়ো গাছ, পাশের জমিতে লাগানো হয়েছে বিভিন্ন ধরনের সব্জি।

মাস খানেক ধরে চলছে এই কাজ। সবটাই ফুটিয়ে তুলছেন নন্দীগ্রামের নবকুমার লাল। নব কুমার বাবু জানান,‘‌ একটি নির্মল গ্রামে কথা, সবই রাখার চেষ্টা করেছি। কাশফুল যেমন দেখা যাবে, শালুক, পদ্মও দেখা যাবে। আবার খেজুর গাছ, তাল গাছও, কলার বাগানও রয়েছে। পায়রা থেকে চড়াই পাখি ‌সবই দেখা যাবে আমাদের এই গ্রামে।

পুরনো ভগ্নাংশ বেদিতে শুকনো গাছ এবং-গাছে লাল সুতো বাঁধাও থাকছে। সবই প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি করা হয়েছে। গ্রাম্য পরিবেশে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে দেবীর মূর্তি।’‌ রয়েছে অসংখ্য থিম । তবে থিমের আঙিনায় পরিবেশ সম্পূর্ণই আলাদা। শহরের মধ্যে অক্সিজেন পেতে কল্যাণ সমিতির পুজো মন্ডপে আসলে শরতের ছোঁয়া মিলবে গ্রাম্য পরিবেশে।