নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ: দলীয় প্রধান, উপপ্রধান ও পঞ্চায়েতের কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে এবার গ্রামোন্নয়নের কাজে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবি জানিয়ে মহকুমা শাসককে চিঠি দিলেন খোদ তৃনমুল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি এজারত আলি। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার বাহাদুর গ্রামপঞ্চায়েতে। যদিও প্রধান ও উপপ্রধান তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ভিওিহীন বলে দাবি করে ব্লক সভাপতির বিরুদ্ধে কাঠমানি চাওয়ার পাল্টা অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন।

জানা গিয়েছে, ফরাক্কার আদিবাসী অধ্যূষিত বাহাদুরপুর গ্রামপঞ্চায়েত। তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে পঞ্চায়েত। প্রধান উজ্জ্বলা মন্ডল ও উপপ্রধান শাহানাজ খাতুন। ফরাক্কা ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি এজারাত আলি লিখিত আকারে জঙ্গিপুর মহকুমা শাসক কৃতিকা শর্মা ও ফরাক্কার বিডিও রাজর্ষি চক্রবর্তীকে অভিযোগ করে জানান, বাহাদুরপুর গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান উজ্জ্বলা মন্ডল, উপপ্রধান শাহানাজ খাতুন ও গ্রামপঞ্চায়েতের কয়েকজন সরকারি কর্মচারী গ্রামোন্নয়নের টাকা আত্মসাৎ করে চলেছেন। বিনা টেন্ডার ছাড়া দলীয় অনুগামীদের কাজ পাইয়ে দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। আদিবাসী এলাকা হওয়ায় আদিবাসীদের উন্নয়নের টাকা সম্পূর্ণ আত্মসাৎ করা হয়েছে। তেরো ও চোদ্দ দশ আর্থিক বর্ষে সব থেকে বেশি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে দলীয় প্রধান উজ্জ্বলা মন্ডলের নেতৃত্বে। ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি এজারাত আলি। যদিও ব্লক সভাপতির অভিযোগকে ভিওিহীন বলে দাবি করেছেন শাসক দলের বাহাদুরপুর গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান উজ্জ্বলা মন্ডল ও উপপ্রধান শাহানাজ খাতুন। তাদের পাল্টা অভিযোগ ব্লক সভাপতি এজারাত আলি একজন তোলাবাজ ও দুর্নীতিগ্রস্ত।

পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠনের সময় ব্লক সভাপতি এজারাত আলি তাদের কাছ থেকে ছয় লক্ষ টাকা কাঠমানি নিয়েছিলেন। গ্রামোন্নয়নের কাজের জন্য বাহাদুরপুর গ্রামপঞ্চায়েতের প্রতিটি কাজের জন্য পাঁচ শতাংশ কাঠমানি দাবি করেন তিনি। গ্রামপঞ্চায়েতের সদস্যরা কাঠমানির টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি বাহাদুরপুর গ্রামপঞ্চায়েতে ঠিকাদারদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে পঞ্চায়েতকে অন্ধকারে রেখে অবৈধ ভাবে মাটি মাফিয়াদের হাতে মাটি বিক্রি করার কাজে লিপ্ত ব্লক সভাপতি এজারাত আলি। স্হানীয় পঞ্চায়েত ব্লক সভাপতি এজারাত আলি কাঠমানির টাকা দিতে অস্বীকার ও অবৈধ কাজের প্রতিবাদ করায় তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা যে কোন তদন্তের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।

এপ্রসঙ্গে ফরাক্কার যুগ্ম বিডিও জাগ্রত চৌধুরী জানান, লিখিত একটি অভিযোগ মিলেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। একদিকে দলীয় প্রধান ও উপপ্রধানের বিরুদ্ধে দুনীতি অভিযোগ খোদ ব্লক সভাপতির। অপরদিকে ব্লক সভাপতির বিরুদ্ধে কাঠমানি ও তোলা আদায়ের অভিযোগ দলীয় প্রধান ও উপপ্রধানের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কার্যত চরম অস্বস্তিতে শাসক দল।