নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ: সত্তর লক্ষাধিক জনসংখ্যা বিশিষ্ট মুর্শিদাবাদ জেলায় একটিও বিশ্ববিদ্যালয় না থাকলেও সংসদে কথা বলেনি বাম কংগ্রেস তৃণমূল। সারাবছর জেলাবাসীর জন্য মুখ না খুললেও ভোটের মুহূর্তে জেলাবাসীর দোরগোড়ায় ভোট ভিক্ষে করতে আসা নেতাদের উপর স্বভাবতই ক্ষুব্ধ জঙ্গিপুর বাসী। বাম কংগ্রেস তৃণমূলের দ্বিমুখী নীতির বিরুদ্ধে এবারের লোকসভায় জোর ধাক্কা দিতে চাইছেন জঙ্গিপুরের আমজনতা।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতার সত্তর বছর পরেও মুর্শিদাবাদ জেলায় একটিও পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেনি। বারবার আন্দোলন, ছাত্র আন্দোলনে কলকাতা কেঁপে উঠলে শেষমেশ ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা করা হলেও এখনও পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো গতিপ্রকৃতি এগোয়নি। পঞ্চায়েত ভোটের মুখে জেলাবাসীর প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা দিয়ে একপ্রকার প্রতারনা করেছিলেন বলেই অভিযোগ জেলাবাসীর। শুধু তৃণমূলের এই প্রতারনার নয়, মুর্শিদাবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সংসদ কিংবা বিধানসভায় আওয়াজ না তোলা বাম ও কংগ্রেস বিধায়ক সাংসদ দের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত জেলাবাসী। পঞ্চায়েত ভোট পাওয়ার আশায় জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা করেছিল বলে অভিযোগ ওয়েলফেয়ার পার্টি অফ ইন্ডিয়ার। দলটির প্রার্থী ড. এস কিউ আর ইলিয়াসের অভিযোগ, জঙ্গিপুর কিংবা বহরমপুরে কংগ্রেসের দুই সাংসদ, মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রে বামফ্রন্টের একজন সাংসদ থাকার পরেও সংসদে জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে মুখ না খুলে জেলাবাসীর সাথে ধোঁকা দিয়েছেন। তারা কখনোই জেলাবাসীর উন্নয়ন চাইনা।মানুষ এবার বাম, কংগ্রেস,তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়ে বিকল্প হিসেবে ওয়েলফেয়ারের দিকেই ঝুঁকছেন। লোকসভা নির্বাচনে জেলাবাসীর সাথে প্রতারকদের উচিত শিক্ষা দেবে।

এদিকে মুর্শিদাবাদে বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা করেও তার কার্যক্রম চালু না করায় জঙ্গিপুরের এক ছাত্র মিনহাজুদ্দিন আব্দুল্লাহ রাজ্য সরকারের প্রতি তীব্র ক্ষোভ ব্যক্ত করে বলেন, আমরা জঙ্গিপুর থেকে বারবার কংগ্রেস বাম তৃণমূল কে ভোট দিয়ে জেতালেও আমাদের উন্নয়নে তারা কোনো ভূমিকা গ্রহন করেননি। শুধু মিনহাজুদ্দিনরায় নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা করেও কার্যক্রম শুরু না করায় জেলাবাসীর অধিকাংশই শাসক তৃণমূল ও কংগ্রেস বাম নেতাদের প্রতি ক্ষুব্ধ।