টিডিএন বাংলা ডেস্ক : বিজেপি এবং তৃণমূল এরা একে অপরের বিরুদ্ধে বললেও বাংলায় এদের অভিমুখ একই। স্বেচ্ছাচারিতা এবং সাম্প্রদায়িকতা এদের লক্ষ্য। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এবং তৃণমূল এই দুই অশুভ শক্তিকে পরাস্ত করাই হবে কংগ্রেসের মূল লক্ষ্য। বৃহস্পতিবার কলকাতায় প্রদেশ কংগ্রেস দপ্তরে সাংবাদিক বৈঠকে একথা বলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র। একই সঙ্গে তিনি এদিন লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের সঙ্গে ঐক্য বা আসন সমঝোতার যাবতীয় সম্ভাবনা নস্যাৎ করে দিয়েছেন। ৯ ফেব্রু‌য়ারি দিল্লিতে সমস্ত রাজ্যের প্রদেশ সভাপতিদের নিয়ে রাহুল গান্ধীর উপস্থিতিতে যে বৈঠক হয় সেখানে পশ্চিমবঙ্গ সম্পর্কে আমরা আমাদের বক্তব্য রেখেছি। কেরালা তাদের বক্তব্য রেখেছে। এ রাজ্যে তৃণমূলের সঙ্গে যে কোনও জোট বা আসন সমঝোতা কংগ্রেসের পক্ষে সম্ভব নয়, দিল্লিতে এআইসিসি নেতৃবৃন্দ তা মেনে নিয়েছেন। আমরা রাহুল গান্ধীকে বোঝাতে পেরেছি এ রাজ্যে তৃণমূলের সঙ্গে কোনোরকম সমঝোতায় গেলে কংগ্রেসের আরও ক্ষতি হবে। বস্তুত এ রাজ্যে কংগ্রেসকে একেবারে শেষ করে দিতে চাইছে তৃণমূল। যেটা বিজেপি’রও অন্যতম লক্ষ্য।

এদিন পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান থেকে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরির অনুগামী প্রায় শ’তিনেক কর্মী, সমর্থক ‘অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিভ ফ্রন্ট’ ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিলেন। সোমেন মিত্র’র হাত থেকে তাঁরা কংগ্রেসের ঝান্ডা তুলে নেন। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিক বৈঠকে প্রশ্ন ওঠে দিল্লিতে রাহুল গান্ধী একই মঞ্চে মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে থাকছেন। একসঙ্গে লড়াইয়ের কথা বলছেন। এখানে আপনারা বলছেন তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করবেন।

সোমেন মিত্র বলেন, প্রথমত দিল্লিতে মঞ্চটি ছিল কেজরিওয়ালের মঞ্চ। ওখানে রাহুল গান্ধী যেমন ছিলেন তেমনি সিপিআই(এম্)ও ছিল। আমার বক্তব্য, রাহুল গান্ধী কি কোথাও বলেছেন, আপনার পাশে ব‍‌সেছি বলে আপনার হয়ে গেলাম। এবার আমাদের সিদ্ধান্তই হলো স্বেচ্ছাচারী, সাম্প্রদায়িকতাকে প্রশ্রয়দাতা তৃণমূল এবং বিজেপি’র বিরুদ্ধে ‘বাংলা কংগ্রেসের লড়াই বাংলায়’। এটা এখন এমনই একটা রাজ্যে পরিণত হয়েছে যেখানে প্রতিদিন প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যায়। পরপর দু’টি পরীক্ষা হয়েছে। দু’টিতেই হয়েছে। ইউনিয়নকে টাকা না দিলে এখানে মেধা থাকলেও কলেজে ভর্তি হওয়া যায় না। এখানে শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ হয় না, কে কত টাকা দেবে তার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ হয়। পশ্চিমবঙ্গের যে মহান ঐতিহ্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সেটাই বিপন্ন। আইনের শাসন নেই, মহিলাদের সম্মান রক্ষায় প্রশাসন পুরোপুরি ব্যর্থ। শিক্ষার হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনতেই হবে। চিট ফান্ড প্রসঙ্গে অধীর চৌধুরি লোকসভায় যা বলেছেন আমরা তাই বলছি। জনগণের করের ৫০০ কোটি টাকা কোথায় গেল? কাদের দেওয়া হলো, জানতে চাই। শ্যামল সেন কমিশনের রিপোর্ট কোথায়? সেটা কেন প্রকাশ করা হচ্ছে না। কেন এখনো প্রতারিতদের টাকা ফেরত দেবার ব্যবস্থা হলো না? বামেদের সঙ্গে আসন বণ্টন বা জোট নিয়ে কোনও আলোচনা শুরু হয়েছে? জানতে চান সাংবাদিকরা।

সোমেন মিত্র বলেন, না এখনও শুরু হয়নি। একজন প্রশ্ন করেন রায়গঞ্জ আসন নিয়ে তো সমস্যা হচ্ছে। সোমেন মিত্র বলেন, সমস্যা হবে না। দেখা যাক না কী হয়।

Advertisement
mamunschool