প্রশান্ত দাস, টিডিএন বাংলা, মালদা: ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল দুজনের। আক্রান্ত গোটা গ্রাম। সরকারী মতে ২২জন আক্রান্ত এখন পর্যন্ত। ঘটনাটি মালদার চাঁচলের রাণীদিঘী গ্রামে। এর ফলে আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা গ্রামে। আক্রান্তদের মধ্যে কেউ কেউ ভর্তি রয়েছে মালতীপুর গ্রামীণ হাসপাতালে। অনেকে আবার বাড়িতে থেকেই হাতুড়েদের সাহায্য নিয়ে চিকিৎসা চালাচ্ছেন। ঘটনার খবর পেয়ে চাঁচল মহাকুমাশাসক, চাঁচল ২নং ব্লকের বিডিও পঞ্চায়েত সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা গ্রামে পৌঁছাতেই তাদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা।

চাঁচল ২ ব্লকের খেমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে রয়েছে রাণীদিঘী গ্রাম। ওই এলাকার একটি পুকুরের জল থেকে ডায়রিয়া ছড়িয়েছে বলে স্থানীয় গ্রামবাসীদের অভিযোগ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীপক ভুঁইঞা (১৬) এবং দুলিয়া ভুঁইঞা (৫০) নামে দুই গ্রামবাসীর ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে। এরপরই আতঙ্ক ছড়িয়েছে রাণীদিঘী গ্রামে ।গ্রামবাসীদের আরও অভিযোগ পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই। গ্রামে একটি টিউবওয়েল। তাও বেশীরভাগ সময় খারাপ থাকে। ফলে বাধ্য হয়েই পুকুরের জল খেতে হয়। এছাড়া অন্য উপায় নেই। পঞ্চায়েত থেকে ব্লক আধিকারিকদের কাছে টিউবওয়েলের জন্য বহুবার আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু কিছুই করা হয় নি। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোন চিকিৎসক থাকে না। ফলে অসুস্থ হলে পরিষেবা জোটে না। হাতুড়ে চিকিৎসকের ভরসাতে থাকতে হয়।গত সাতদিন ধরে গ্রামবাসীরা আক্রান্ত হচ্ছে। তবুও প্রশাসন থেকে স্বাস্থ্যকর্তাদের হুঁশ নেই।

মঙ্গলবার সরকারী কর্তারা গ্রাম পরিদর্শনে গেলে বিক্ষোভ দেখান বাসিন্দারা। চাঁচল মহাকুমা শাসক সব্যসাচী রায় জানান, গ্রামে বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। পানীয় জলের ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নেই। শৌচালয় নেই। দ্রুত এইগুলির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মেডিক্যাল টিমকে আক্রান্তের পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাণীদিঘী গ্রামে একটি পুকুর রয়েছে। সেই পুকুর সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৯০ টি পরিবারের বসবাস।যারা ওই পুকুরের জল ব্যবহার করেন। সেই জল থেকেই ডায়রিয়া ছড়িয়েছে। পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ার কারণেই জল দূষিত হয়ে গিয়েছে । পানীয় জলের অভাবে বাধ্য হয়ে মানুষকে পুকুরের এই দূষিত জল খেতে হচ্ছে। আর তাই গ্রামের দুজন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন বলে দাবী গ্রামবাসীদের। এলাকার হাতুড়েদের সাহায্য নিয়ে বাড়ি বাড়িতে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা চলছে। কেননা এখনো পর্যন্ত এলাকায় স্বাস্থ্য দপ্তরের কোন টিম আসে নি। পুরো গ্রাম জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।