নিজস্ব প্রতিনিধি, টিডিএন বাংলা, বীরভূম: রাষ্ট্রপতি যখন সমাবর্তন মঞ্চে উপস্থিত, তখন ছাত্র বিক্ষোভের আঁচ শান্তি নিকেতনে। ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে নিজেদের দাবি জানাতে পারে নি অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন। তবে ক্যাম্পাসের বাইরে জনা কয়েক ছাত্র হাতে পোস্টার নিয়ে বিশ্বভারতীতে সি আই এস এফ নিয়োগ নিয়ে প্রতিবাদে সোচ্চার হন। ঐ বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য সুদাম সাহা বলেন, বিশ্বভারতী কাঁটাতারে ঘেরা কোন বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড নয়। বা এই স্থান সমাজ বিরোধীদের কোন আখড়া নয়। এভাবে ছাত্র ছাত্রী স্বার্থ সম্পর্কিত যে কোন আন্দোলনকে বন্দুক দিয়ে দমিয়ে দেওয়া হবে। বন্দুক আর বেয়নেট যেখানে শেষ কথা বলতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, বোলপুর লোকাল ডি এস ও , বিশ্ব ভারতী ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে বিশ্ব ভারতীর সকল ছাত্র-ছাত্রী, অধ্যাপক ও আশ্রমিকদের কাছে আমাদের আবেদন বিশ্ব ভারতীর স্বৈরাচারীর বিরুদ্ধে সরব হোন। সি আই এস এফ নিয়োগের দুরভিসন্ধি প্রতিহত করুন। এই ব্যাপারে তারা রাষ্ট্রপতিকে খোলা চিঠি লেখেন। তাঁদের দাবি, বিশ্ব ভারতীর মুক্ত শিক্ষাঙ্গনে বন্দুক ধারী সি আই এস এফ নিযুক্তি বন্ধ হোক। এব্যাপারে সুদাম সাহা জানান, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মুক্ত শিক্ষাঙ্গন শুধু নয় কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দুক ধারী সি আই এস এফ মোতায়েন করা যায় না। এই নিযুক্তি রবীন্দ্র আদর্শ বিরোধী। ছাত্র ছাত্রী স্বার্থ বিরোধী।

উল্লেখ্য, সমাবর্তনের আগে বিশ্ব বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এই সি আই এস এফ মোতায়েনের বিরুদ্ধে পোষ্টার পড়ে। বিশ্ব বিদ্যালয়ের কর্মী সভা এর বিরোধিতা করে সি আই এস এফের নিযুক্তির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন করে। সংগঠনের সভাপতি গগন সরকার বলেন, যেখানে কর্মী দের বকেয়া মেটাতে পারছে না, বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে সি আই এস এফ মোতায়েনের জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা মাসে ব্যয় করে বিশ্ব বিদ্যালয়ের কি লাভ?

একইভাবে পড়ুয়াদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছে, যেখানে স্কালারদের বকেয়া দিতে পারছে না, সেখানে এই বাহুল্য কোথা থেকে আসে। এই উত্তপ্ত আঁচ উপলব্ধি করেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করে বিশ্ব ভারতী। শুধু তাই নয়, পুলিশের তরফে তাদের বাধা দেওয়া হয়। পোস্টার না কাড়লেও, চিঠি কেড়ে নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, বিশ্ব ভারতী কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের কাছে সি আই এস এফ নিযুক্তি নিয়ে দাবি করার পিছনে যুক্তি দেখিয়ে বলে, বেসরকারি নিরাপত্তা রক্ষী কথা মত কাজ করে না। আর তার ফলে চুরি যাচ্ছে মূল্যবান চন্দন গাছ। আর তার পর, মন্ত্রক থেকে মঞ্জুরি মিলেছে, বলে সূত্রের খবর।

উল্লেখ্য, বেনারস হিন্দু বিশ্ব বিদ্যালয় ও একসময় সি আই এস এফের দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু, সেখানে কোন মোতায়েন করা হয় নি। এদিকে সি আই এস এফ মোতায়েনের সবুজ সংকেত প্রাপ্তির খবর চাউর হতেই সমালোচনায় মুখর হন পড়ুয়া থেকে আশ্রমিকরা। এর আগেও, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যালয়কে দেওয়াল দিয়ে ঘেরার সময় প্রাক্তন উপাচার্য সুশান্ত দত্ত গুপ্তের আমলে ঘোর সমালোচনা হয়। বলা হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মুক্ত অঙ্গনকে দেওয়াল দিয়ে অবরুদ্ধ করা হচ্ছে। জেল খানা বানানো হচ্ছে। এবার কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী নিযুক্তিতে সেই জেল খানা বানানোর প্রচেষ্টা বলে অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন মহলে। এই তপ্ত পরিবেশের গুমোটে পালন হতে চলেছে ৫০ তম সমাবর্তন অনুষ্ঠান। এদিকে সোমবার যাতে রাষ্ট্রপতির সামনে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে ব্যাপারে সচেষ্ট।