টিডিএন বাংলা ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গের নেতৃস্থানীয় রাজ্য ও কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে মুসলমান শিক্ষার্থীদের শতকরা হার নিম্নমানের। ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের উচ্চ শিক্ষার উপর ষষ্ঠ  অল ইন্ডিয়া সার্ভে অন হায়ার এডুকেশন (এআইএসএইচই) -এর  রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে। সোমবার  মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রস্তুতকৃত রিপোর্টটি।

কলকাতার প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্বভারতী, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি- খড়গপুর, পশ্চিমবঙ্গ টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, কলকাতার এডুকেশন প্লানিং আন্ড আডমিনিস্ট্রেশন, কল্যাণীর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি, আসানসোলের কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতায় ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং মোহনপুরের বিধান চন্দ্র কৃষি বিশ্ব বিদ‍্যালয়ের মতো অভিজাত প্রতিষ্ঠানগুলিতে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে কোনো মুসলিম ভর্তি হয়নি। একটি  বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অ্যামিটিতে ১১৪০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে কোন মুসলমান নেই।
যদিও, এআইএসইএইচই এর রিপোর্ট থেকে পরিস্কার নয় যে প্রতিষ্ঠানগুলি মুসলিমদের ও বি সি তালিকাভূক্ত করেছে কিনা। রাজ‍্যে অনুরূপ জরিপের সাথে যুক্ত এক বিশেষজ্ঞ বলেন, “কোনও প্রতিষ্ঠানে পৃথক কলামের ভিত্তিতে মুসলমানদের সংখ্যার উল্লেখ করা হয় না।”
বাংলার জনসংখ্যার ২৭% এরও বেশি মুসলিম। রাজ‍্যের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে মুসলমানদের শতকরা হার ০% এবং ৩% এর মধ্যে।
পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু বিষয়ক রাজ্য মন্ত্রী গিয়াসউদ্দিন মোল্লা স্বীকার করেন যে, মুসলমানরা রাজ্যের উচ্চতর শিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলোতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি দ‍্য হিন্দু পত্রিকাকে বলেন, “কিছু প্রতিষ্ঠানে মুসলিমদের সংখ‍্যাটা অত‍্যন্ত কম, আমরা সঠিক কারণটা বের করার চেষ্টা করছি।”
নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেন এবং এসএনএপি অ্যাসোসিয়েশন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত স্বেচ্ছাসেবকদের একটি সামাজিক সংস্থা ২০১৬ সালে প্রকাশিত ২০১৬ সালে মুসলমানদের অবস্থা সম্পর্কে একটি রিপোর্টে বলেছে যে, “মুসলমানদের জনসংখ্যার  বেশিরভাগ গ্রামীণ এলাকায় হওয়ার মুসলিমদের সামগ্রিক শিক্ষার হার [৬৯.৫%] উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত হয়েছে।”
উপরন্তু, সরকারি তথ্য বলছে যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে মুসলিম ছাত্রদের মধ্যে ড্রপ আউট হার বেশি। অনেকের মতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার অভাব মুসলিম ছাত্রছাত্রীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে  উচ্চতর শিক্ষা অর্জনে বাধা।
২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৩২৯ ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে মাত্র ৫০ (০.৬%) মুসলিম। কলকাতা ভিত্তিক কেন্দ্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিকাল ইনস্টিটিউটে (আইএসআই) ২০১৫-১৫ সালে ৭৫০ জনের মধ্যে মাত্র ৮ (১.০৮%)জন মুসলিম এআইএসএইচই রিপোর্টে বলা হয়েছে। কয়েকটি শীর্ষ শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে এই সংখ্যাটি সামান্য ভাল ছিল। রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে ৪৬৫২২ ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে মাত্র ২.৩৪% মুসলিম ছিল, এবং শিলিগুড়ির উত্তর বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২.৬% মুসলমান শিক্ষার্থী।
আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং মালদা জেলার গৌরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বাধিক সংখ্যক মুসলিম শিক্ষার্থী রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু দপ্তর এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের তহবিলে পরিচালিত আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৬৫৬ মুসলিম শিক্ষার্থী ছিল ৬৭৭২ জনের মধ্যে।
গৌড় বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৭% এর উপর মুসলমান ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়। তবে, গৌড় বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র ২,৫০০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।(সুত্র : দ্য হিন্দু)