টিডিএন বাংলা ডেস্ক: তাপস পালের মৃত্যুতে কার্যত রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তাপস পালের মৃত্যু প্রসঙ্গে আজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কার্যত সিবিআইকে দায়ী করেন। তারপরেই আজ ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোষ্ট করেন তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ ও সাংবাদিক কুনাল ঘোষ। তিনি লিখেছেন, তাপস পালের মৃত্যু প্রসঙ্গে রবীন্দ্রসদনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করছি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শুনলাম। তাপস পাল, সুলতান আমেদ এবং প্রসূনদার স্ত্রী পারমিতাদির মৃত্যুর পিছনে সিবিআই মামলা এবং বন্দিজীবনে হয়রানির চাপ আছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। এই তত্ত্ব ঠিক হলে বলতে হয় আমার মা প্রয়াত মণিকা ঘোষের অতিরিক্ত অসুস্থতা ও মৃত্যুর জন্য দায়ী রাজ্য সরকার, রাজ্য পুলিশ এবং রাজীবকুমারসহ কয়েকজন অফিসার। আমি জ্ঞানত কোনো দোষ করিনি। আমাকে অন্যায়ভাবে বন্দি করে, মামলার পর মামলা দিয়ে হেনস্থা করা হয়েছে। মায়ের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয় নি। আমাকে অনশন করে মাকে দেখার অনুমতি নিতে হয়েছে। এই চাপে মা আরও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। মা সঙ্কটজনক অবস্থায় যখন হাসপাতালে, তখন অনেক কষ্টে মাত্র ২ ঘন্টার প্যারোল আদায় করে দেখতে গেছিলাম। পুলিশের বাড়াবাড়িতে মাত্র কুড়ি মিনিটে আমাকে চলে যেতে হয়েছিল। সেটাও কলকাতা পুলিশ। পরে মা আর বেশিদিন বাঁচেন নি। ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেন নি। আমার জামিনের পর মাকে আর বেশিদিন পাই নি। কিছুদিনের মধ্যেই তিনি মারা যান। মুখ্যমন্ত্রী আমার মাকে ভালোভাবে চিনতেন। তাঁর বিবেচনায় আমার মায়ের মৃত্যুর কারণ স্থান না পাওয়াটা দুর্ভাগ্যজনক। প্রথম থেকেই রাজ্য পুলিশের সেই কুৎসিত, পক্ষপাতদুষ্ট তদন্তের সূত্রেই পরবর্তীকালে আমিও কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলির মুখে পড়েছি। সেই তদন্ত এখনও চলছে। হয়রানি চলছে। হয়ত আরও বাকি। সে আমি লড়েছি, লড়ছি, লড়ব। কিন্তু বৈষম্যমূলক পক্ষপাতদুষ্ট বিবৃতি হজম করতে পারলাম না।

  তারপরেই তিনি লিখেন, অভিযুক্তদের হয়ে কথা বলতে গেলে নিরপেক্ষ থাকা বাঞ্ছনীয়।  মুখ্যমন্ত্রী এখনও বন্দি থাকা এক সাংবাদিকের কথা বলেছেন। আমি যতদিন বন্দি ছিলাম, তখন আমার কথা মনে পড়ে নি কেন? একেকজনের ক্ষেত্রে একেকরকম নীতি হয় না কি? এখন যিনি বন্দি সাংবাদিক, তাঁর সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রীর কোনো বক্তব্য রাখা উচিত নয়। আমি গভীর দুঃখের সঙ্গে এই পোস্ট করলাম।

নিজেকে আজও কঠিন দিনের পরিবর্তনের আন্দোলনের সৈনিক মনে করি। পুনশ্চ: যাঁরা আজ তাপস পালের মরদেহে মালা দিয়ে কান্নাকাটি করছেন, নানা স্মৃতিচারণের আদিখ্যেতা করছেন, এঁদের অধিকাংশ সত্যিই অভিনয় করছেন। তাপসদার বন্দিদশার কঠিন দিনে, অন্তত সহকর্মী হিসেবেও যাঁরা যোগাযোগ রাখেন নি, সহমর্মিতা জানান নি, সেইসব সুবিধেবাদী ধান্দাবাজ, মুখোশধারী আজ প্রয়াত তাপসদাকে ঘিরে বাংলার মানুষের আবেগের মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের প্রচার ও স্বার্থসিদ্ধি করতে গেছেন। এঁদের জানাই ধিক্কার। তাপসদা দোষী না নির্দোষ, সেই বিতর্কে ওঁদের ঢুকতে হত না। কিন্তু পরিচিত কেউ বিপদে পড়লে খোঁজ রাখাটা মনুষ্যত্বের মধ্যে পড়ে। তাপসদা আইনি বিপদে ছিল, শারীরিক ও মানসিকভাবেও। তখন যাঁরা সরে গিয়েছিলেন, আজ মিডিয়ার সামনে চোখের জল ফেলছেন।
ছিঃ।

টিডিএন বাংলা ডেস্ক: যদি কেউ মরতে চায়, তাহলে তাকে বাঁচানো সম্ভব নয়। সিএএ বিরোধীদের উদ্দেশ্যে এমনই মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। উত্তরপ্রদেশ বিধানসভায় সিএএ ও ডিসেম্বর মাসের আন্দোলন সম্পর্কে আলোচনা চলাকালীন সময়ে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর এহেন মন্তব্যে রীতিমতো বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এদিন তিনি বলেন, ‘আমি সব সময়েই গণতান্ত্রিক আন্দোলন সমর্থন করি। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা হাতে তুলে নিলে তার ফল ভালো হবে না। যারা যে ভাষা বোঝে, তাদের সেই ভাষাতেই বোঝাব বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।