নিজস্ব প্রতিনিধি, টিডিএন বাংলা, ফরাক্কা:
দেশে থ্যালাসেমিয়ার প্রকোপ দিন দিন বেড়েই চলছে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, ছত্তিসগড়, দিল্লি, ঝাড়খণ্ড, বিহার ও উত্তরপ্রদেশের বেশ কিছু অংশ সহ বিভিন্ন রাজ্যকে সম্প্রতি থ্যালাসেমিয়া বলয়ের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চিকিৎসক প্রশান্ত কুমার চৌধুরীর মতে, এই রাজ্যগুলিতে শিশুদের মধ্যে থ্যালাসেমিয়া সংক্রমণের মাত্রা সব থেকে বেশি।

শিশু দিবস উপলক্ষে নূর জাহানারা স্মৃতি হাই মাদ্রাসা তিনদিন ব্যাপী শিশু শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উৎসব করে আসছে কয়েক বছর ধরে। মাদ্রাসার অভিনব চিন্তা ভাবনায় ইতিমধ্যে নজর কেড়েছে রাজ্যের। এই বছর শিশু শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উৎসবের দ্বিতীয় দিন ছাত্রছাত্রীদের নিখরচায় রক্তের পরীক্ষাও করানো হয়েছে।

সাধারণত স্বাধীনতা দিবস, প্রজাতন্ত্র দিবসে রাজ্যের বিভিন্ন শহর মফস্বল জুড়ে অনুষ্ঠিত হয় রক্তদান শিবির। কিন্তু শিশু দিবসে এরকম প্রয়াসের নজির কম। ভারতের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫ শতাংশ মানুষ জন্মায় যৌন সংসর্গ বাহিত থ্যালাসেমিয়া নিয়ে। জন্ম থেকে থ্যালাসেমিয়া বাহিত শিশুদের মা অথবা বাবা থ্যালাসেমিয়ার বাহক হলেই এই শিশুদের ক্ষেত্রে এই সম্ভাবনা থাকে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক মহলের একাংশ।

মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক বলেন, আমি যখন কান্দি কলেজ হোষ্টেলে থাকতাম তখন ঐ হোষ্টেলের রান্নার সঞ্জয় কাকু মাঝে মধ্যে রক্ত নিতেন। এছাড়া আমার এক কলিগের মেয়েকেও রক্ত নিতে দেখেছি। এই বিষয়ে একটু চিন্তা হলেও খুব একটি গুরুত্ব দিইনি যখন আমার কাছের বন্ধুর ছেলের থ্যালাসেমিয়া ধরা পড়ল তখনই ব্যাপারটা আঁচ করলাম যা বইয়ে পড়েছি। তাদের দেখে খুবই কষ্ট হলেও কিছু করার নেই। এই বিষয়ে এক দিন মাদ্রাসা ডেপুটি ডিরেক্টর দিপঙ্কর গোস্বামী স্যারের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিলাম যে আমার মাদ্রাসায় সকল শিশুর থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা করব। এবং ডা সজল কুমার পন্ডিত মহাশয় এই বিষয়ে আমাকে যথেষ্ট সাহায্য করেছেন। তাঁর আশা এমন উদ্যোগ এলাকার অন্য বিদ্যালয়গুলোকে উৎসাহিত করবে।

শিবিরে থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে পড়ুয়াদের সচেতন করেন ফারাক্কা ব্লক মেডিক্যাল অফিসার ডা সজল কুমার পন্ডিতর, জঙ্গিপুর লোক সভার এমপি খলিলুর রহমান, তার ছেলে বিশিষ্ট শিল্পপতি খালিদুর রহমান, শেখ ফুরকান আলী, রাজশ্রী চক্রবর্তী, সভাপতি আন্জূমান আরা প্রমুখ।

এদিন থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা ছাড়াও রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা এবং রক্তদান শিবিরেরও ব্যবস্থা করে এই মাদ্রাসা। সকল শিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি কম্পিউটার ডিজিটাল ল্যাব উদ্বোধন এবং প্রথম শিক্ষকের লেখা আমার গনিত বই প্রকাশ করেন মাদ্রাসার সেক্রেটারি তথা জঙ্গিপুর লোক সভার সংসদ খলিলুর রহমান।