নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা,  কলকাতা : বই মেলায় তিনদিনের সাহিত্য উৎসবের শেষ দিনে দলিত বহুজনকে জাগার জন্য ডাক দিলেন এস আনন্দ, কাঞ্চ ইলাইয়াহ শিফার্ড ও মনোরঞ্জন ব্যাপারী। দলিত আদিবাসী সংখ্যালঘু মুসলিম সমাজের এই তিনজন সাহিত্যিক নিজেদের লেখায় দেশের জাতপাত ও বর্ন ব্যবস্থার কথা তুলে ধরেছেন। শনিবার আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় স্টেট ব্যাংক অডিটোরিয়ামে সাহিত্য উৎসবে ‘অবলা গল্প’ অনুষ্ঠানে সাহিত্যিক মনোরঞ্জন ব্যাপারী বলেন,’যাদের পেটে খাবার নেই, যারা দিনরাত খাবার জোগাড় করে, তারা বাংলা শেখার সময় পায়না, তারা আবার কী করে তবে ইংরেজি শিখবে? ইংরেজি শেখা বাবুগুলি আমাদের ভালো চোখে দেখেনা। আমরা ভারতে থাকবো নাকি ইন্ডিয়ায় থাকবো নাকি হিন্দুস্থানে? দলিত চন্ডাল লোকগুলো পেট চালাতেই মরছে, এত কিছু বোঝার সময় নেই।’
তিনি আরও বলেন,’বাংলায় বর্ণবাদ আছে। রবিবারের পাত্রপাত্রীর বিজ্ঞাপন দেখলেই এটা বোঝা যাবে। তবে বাংলায় অন্য রাজ্যের মতো দলিতদের পুকুরের জল খেতে নিষেধ করেনা। কিন্তু দলিত ও চন্ডালরা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ভাবে এগিয়ে গেলে বাধা দেবে।’ মনোরঞ্জন বাবু নিজের সাহিত্য নিয়ে বলতে গিয়ে বলেন,’ আমি লেখার সময় শিল্প শৈলীর দিকে নজর দিইনি। যা মনে হয়েছে লিখেছি, যা ভেবেছি বলেছি, মানুষ পছন্দ করেছে, তাই জনপ্রিয় হয়েছে। খেলতে খেলতে খেলোয়াড় যেমন হয় তেমনি লিখতে লিখতে লেখক হয়েছি। কখনো শিল্প, উপমা ভাবিনি। আমি যে ঘরে জন্মেছি আমার কোনও হাত ছিলোনা। কিন্তু শুধু জন্মগত কারণে আমাদের ভাইয়ে ভাইয়া ঝগড়া লাগিয়ে দিচ্ছে, ভয়ঙ্কর ভাবে দ্বন্দ্ব লাগানো হচ্ছে। আমাদের এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।’

কেরলের জনপ্রিয় সাহিত্যিক কাঞ্চ ইলাহি সারাজীবন দলিতদের নিয়ে লিখেছেন। তিনি প্রশ্ন করেন,  অনেকে বলেন দেশে নাকি এখন জাতপাত নেই। ভারতে বর্ণবাদ নেই তো সবার নামের পরে চ্যাটার্জি, ব্যানার্জি, চট্টোপাধ্যায়, দত্ত, মুখার্জি, সেন লাগানো কেন। কেন মন্ডল, দাস?’ আবার সাহিত্যিক এস আনন্দ বলেন, ‘এদেশে বহুজন সমাজ সংখ্যাগরিষ্ঠ। দলিত, আদিবাসী, মুসলিম মিলিয়ে 70%। কিন্তু তাঁদের ইতিহাস সাহিত্য আলোচিত হয়না।’

উল্লেখ্য, ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশ বিদেশের সাহিত্যিকদের নিয়ে কলকাতা বইমেলায় এবার তিনদিনের সাহিত্য উৎসব হয়। শেষদিনে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করেন সাংবাদিক আশীষ রায়।
দুই দেশ একটা বাংলা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিন দিনের সাহিত্য উৎসব শেষ হয়।