কৌশিক সালুই, টিডিএন বাংলা, বীরভূম: সঠিক পুনর্বাসন দিয়ে কয়লা শিল্প হোক । এমনই দাবি করে বীরভূমে ডেউচা পাচামী কয়লা শিল্পে উচ্ছেদের আশঙ্কায় পথে নামলেন বীরভূমের আদিবাসী সংগঠন। সোমবার জেলার বেশ কয়েকটি জায়গায় তারা অবরোধ করেন। তাদের আরও দাবি আদিবাসীদের জল জঙ্গল জমির অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে ।

দীর্ঘ কয়েক বছর টালবাহানার পর কেন্দ্র সরকারের কাছে ডেউচা পাচামী কোল ব্লকের কয়লা উত্তোলনের অধিকার পেতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। লোকসভার চলতি অধিবেশনে রাজ্যের তৃণমূলের সাংসদরা কেন্দ্রীয় কয়লা মন্ত্রী কাছে দরবার করেন। তারপরেই কয়লা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয় খুব দ্রুত রাজ্যের হাতে সেই অধিকার দিয়ে দেওয়া হবে। প্রস্তাবিত কয়লা শিল্পের এলাকাটিতে অন্যান্য সম্প্রদায়ের পাশাপাশি একটা বড় অংশ আদিবাসী সম্প্রদায়ের বসবাস।

তাদের আশঙ্কা সেই শিল্পের জমি অধিগ্রহণের জন্য তাদের ভিটেমাটি ছাড়া হতে পারে। যদিও শিল্পের জন্য আদিবাসী সমাজের কোন আপত্তি নাই কিন্তু উপযুক্ত পুনর্বাসন যাতে দেওয়া হয় সেই দাবি জানিয়ে আগেভাগেই পথে নামলেন তারা। এদিন বীরভূম জেলার ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের সিউড়ির আব্দারপুরে, মহম্মদ বাজারের জয়পুরে এবং রামপুরহাট থানার দুমকা রোডের বড়পাহাড়িতে অবরোধে বসেন আদিবাসীরা।

ডেউচা এবং পাঁচামীর বিস্তির্ন এলাকা জুড়ে মাটি তলায় রয়েছে উন্নতমানের দামী কয়লা। সেই কয়লা উত্তলনের ফলে রাজ্যে তাপবিদ্যুত কেন্দ্র গুলি যেমন উপকৃত হবে তেমনি রাজ্যের বাইরে সেই সব কয়লা রপ্তানীর ফলে রাজ্যের কোষাগারে ভাল মুনাফা আসবে বলে দাবী সরকারের। কিন্তু এই মহম্মদ বাজার ব্লকের ডেউচা-পাচামী এলাকায় বিস্তির্ন এলাকা জুড়ে রয়েছে আদিবাসীদের বাস। রয়েছে প্রায় কয়েকশো গ্রাম এবং সেই গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দা। দুই বছর আগে মুখ্যমন্ত্রী জেলার এই শিল্পের কথা ঘোষনার পর জেলা প্রশাসন একটু একটু করে এই সরকারি শিল্প গড়ে তোলার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল। কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের জটিলতার কারণে কিছুদিনের জন্য থমকে যায় কয়লা উত্তোলনের প্রক্রিয়া। কেন্দ্রের নতুন সরকার আসার পর রাজ্যের তৃণমূল সাংসদরা এ বিষয়ে তৎপর হয় এবং কয়লা মন্ত্রকের মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। পরে কয়লা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়।

আদিবাসি নেতা রবীন সরেন বলেন, “উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে আমরা কয়লা শিল্পের পক্ষে। তবে আদিবাসীদের উপযুক্ত পুনর্বাসন দিতে হবে। তবেই শিল্প করা হোক।

উল্লেখ্য, মহম্মদবাজার ব্লকের ডেউচা-পাঁচামি-দেওয়ানগঞ্জ-হরিণসিঙ্গা এবং তার আশপাশের গ্রামের মাটির নীচে ২১০ কোটি ২০ লক্ষ টন কয়লা মজুত রয়েছে। কিন্তু তা এতটাই নীচে রয়েছে যে, এত দিন সম্ভব হয়নি। আন্তর্জাতিক বাজারে দরপত্র চেয়ে এই কাজে অভিজ্ঞ খনন সংস্থা নিয়োগ করা হবে। এবং কয়লার সঙ্গে ওই খনি এলাকার পাথরও তোলা হবে। এই প্রকল্পে লগ্নি হবে আনুমানিক ৫০ হাজার কোটি টাকা।

প্রকল্পটির ফলে রাজ্যের বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কয়লা জোগানে আর কোনও সমস্যাই থাকবে না। ফলে বিদ্যুতের দাম রাজ্য সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।এই প্রকল্প নিয়ে এর মধ্যেই যথেষ্ট আশাবাদী সরকারি শীর্ষ কর্তারা। তাঁরা মনে করছেন, এই কর্মকাণ্ডের ফলে বীরভূমের মতো পিছিয়ে পড়া জেলার আর্থিক হাল তো ফিরবেই, তা ছাড়া রাজ্যের অর্থনীতির উপরেও এর বড় প্রভাব পড়বে।