টিডিএন বাংলা ডেস্ক : ভারতী হেমব্রম ১৫ বছরের এক আদিবাসী কন্যা। বর্ধমান জেলার বটগ্রামের অত্যন্ত দুঃস্থ পরিবারের এই কিশোরী বর্ধমান শহরের বাহির সর্বমঙ্গলা পাঞ্জাবিপাড়ায় এক মুসলিম পরিবারের নয়নের মণি। স্থানীয় হরিসভা হিন্দু বালিকা বিদ্যালয়ের সে নবম শ্রেণীর ছাত্রী। ভারতীর বাবা রোবাই হেমব্রম ভেদিয়ায় রিকশা টেনে কখনও বা রাজমিস্ত্রির জোগাড়ের কাজ করে সংসার চলান। তার পাঁচ মেয়ের মধ্যে ভারতী তৃতীয়। সর্বকনিষ্ঠ আরতী হেমব্রমও বটগ্রামে মির্জা জাকির হোসেনের শ্বশুরবাড়িতে সযত্নে বেড়ে উঠছে।

কথা হচ্ছিল ভারতী হেমব্রমের সঙ্গে তাদের পাঞ্জাবিপাড়ার বাড়িতে। জাকিরকে ভারতী ‘পিসেমশাই’ ও স্ত্রী সেরিনা ইয়াসমিনকে ‘পিসিমণি’ বলে সম্বোধন করে। জাকিরের প্রথম পক্ষের মাতৃহারা সন্তান আয়ন মির্জাকে স্নেহ মমতায় বড়ো করে তোলার দ্বায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয় ভারতী। ভেদিয়ার বটগ্রাম থেকে সে চলে আসে বর্ধমান বাহির সর্বমঙ্গলা পাঞ্জাবিপাড়ায়। দীর্ঘ ৬ বছর ধরে মুসলিম পরিবারের এক সদস্য হিসেবে সে এই পরিবারকে আপন করে নেয়। তার পিসেমশাই জাকির হোসেনের কিনে দেওয়া সাইকেল নিয়েই সে স্কুলে যায়। সবুজসাথী প্রকল্পের সাইকেল এখনও না পাওয়াতেই এই অবস্থা।

পড়াশুনাতেও ভারতী যথেষ্ট ভালো। মাধ্যমিক পাশের পর নার্সিং এর প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহী। তার বাবা-মা বিয়ে দিতে চাইলেও সে উচ্চশিক্ষায় পাঠ নিতে চাই। একজন সাঁওতাল মেয়ের জীবন সংগ্রামে এই এলাকার মানুষ জন খুবই গর্বিত। ভারতী জানায়, তার মধ্যে কোনও ধর্মীয় গোঁড়ামি নেই। সে যেমন মনসা পুজো করে তেমনই, এ বছর রমযান মাসে কয়েকটি রোযাও রেখেছে।

এই দুই পরিবারের আত্মীয় ফুরফুরা হাই-মাদ্রাসার শিক্ষক আনিসুল হক জানান, ভারতী যে সাঁওতাল তিনি তা প্রথমে বুঝতেই পারেননি। তিনি ভেবে ছিলেন হিন্দু তপশিলি পরিবারের মেয়ে সে। হেমব্রম পদবি শুনে তিনি শেষ পর্যন্ত বুঝতে পারেন ভারতী আসলে এক সাঁওতাল কিশোরী। তবুও সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের এক সদস্য হিসেবে সে পরম স্নেহ মমতায় বেড়ে উঠছে, তা এক কথায় নজিরবিহীন।