নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা: ঘূর্ণিঝড় আম্পানের পর অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ নেই,কিন্তু ২৭ রমজান লায়লাতুল কদরের খোঁজে কেউ প্রদীপের আলো জ্বালিয়ে কুরআন পড়েছেন আবার কেউ বা অন্ধকারে আল্লাহকে ডেকেছেন। করোনা আবহের ঝড়ে এমনই ঘটনার সাক্ষ্মী থাকলো বাংলা।

এমনিতেই লকডাউনে মসজিদে রাত জাগার উপায় নেই। তবে বাড়িতেই চলছিল ইবাদত। কিন্তু হঠাৎ আগত ঘূর্ণিঝড়ে সবকিছু লন্ডভন্ড হয়ে যায়। বিদ্যুৎ সংযোগ হয়নি। কিন্তু অভূতপূর্ব ভাবে দেখা গেল, রোজাদার মানুষ দুর্যোগের মধ্যেও আল্লাহ ডাকছেন। অনেকে অন্ধকার ঘরে সারারাত জেগে জিকির করেছেন। আবার কেউ মোমবাতি বা হ্যারিকেন জ্বালিয়ে কুরআন পড়েছেন।
মহিলাদের মধ্যেও রাত জাগার ছবি দেখা গেছে। পরিবারের সকলে মিলে আল্লাহর কাছে ধর্ণা দিয়েছে। ছোট ছোট শিশুরাও বাবা মায়ের সঙ্গে রাত জাগার চেষ্টা করেছেন।
এক রোজাদার বলেন, মহান আল্লাহর ভাষায়-লাইলাতুল কদর হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। এ রাতের খোঁজে তাই রাত জগতে হচ্ছে। রমজান সবার ভাগ্যে জোটেনা। আল্লাহ আমাদের রোজা রাখার সৌভাগ্য দিয়েছেন। তাই যেভাবে থাকি পাপ মুক্ত করার চেষ্টা করছি। আসল জীবনতো মৃত্যুর পর। পরকালের মুক্তি মিললে আর কিছু দরকার নেই।

উল্লেখ্য মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনুল কারীমে জানিয়েছেন, ‘আমি একে নাজিল করেছি শবে কদরে। শবে কদর সম্পর্কে আপনি কি জানেন? শবে কদর হলো এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এতে প্রত্যেক কাজের জন্য ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে। এটা নিরাপত্তা, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। (সুরা আল কাদর : ১-৫)।
তবে লাইলাতুল কদরের নির্দিষ্ট কোনো তারিখ নেই। ২১ রমজান থেকে নিয়ে ২৯ রমজন পর্যন্ত বেজোড় যে কোন রাতই শবে কদর হতে পারে। আর এসময় নিজের গোনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন রোজাদারগণ।