টিডিএন বাংলা ডেস্ক : ৫ রাজ্যের ভোটে বিজেপি মুখ থুবড়ে পড়ার পর রাজ্যে–‌রাজ্যে দলের মাঝারি মাপের নেতা ও কর্মীরা রীতিমতো হতাশ। বাংলায় রাজ্য দপ্তর ৬ মুরলীধর সেন লেনও ম্রিয়মাণ। মঙ্গলবার বিকেল থেকেই দপ্তরে হতাশার ছাপ ছড়িয়ে পড়ে। সপ্তাহের যে–‌কোনও দিন দপ্তরের ঠিক সামনের রাস্তায় গেলেই নজরে আসে ভিড়। দপ্তরে মানুষের নিরন্তর আনাগোনা। প্রায় রোজই এই নেতা, ওই নেতার ঘরে সাক্ষাৎপ্রার্থীদের ভিড়ের ঠেলায় সাংবাদিকদের অপেক্ষা দীর্ঘতর হয়। বাংলা বিজেপি–‌তে হতাশার কারণে কলকাতার সাংবাদিকদের কিঞ্চিৎ সুবিধে তো হয়েছে বটেই। অপেক্ষা সংক্ষিপ্ত হয়েছে। বুধ ও বৃহস্পতি দু’‌দিনই সাংবাদিকেরা দ্রুত নেতাদের ঘরে ঢুকতে পেরেছেন, কথা বলতে পেরেছেন। দলের এক কর্মীর ম্লান মুখে স্বীকারোক্তি, পাড়ায় পাড়ায় এর মধ্যেই বিজেপি কর্মীদের নিয়ে ব্যঙ্গ–‌বিদ্রুপ শুরু হয়ে গেছে। কোথাও বলা হচ্ছে, ‘‌গোমূত্র খেয়ে লাভ হল না?‌’‌ কোথাও শুনতে হচ্ছে, ‘‌মা (‌‌গোমাতা)‌‌ আশীর্বাদ করল না?‌’‌

দক্ষিণ কলকাতার উঠতি নেতা পার্থ। তিনি অনেক নেতারই পরিচিত, কারও কারও পছন্দেরও। তাঁর এলাকায় পুরভোট হচ্ছে। তিনি বেশ সাহস দেখিয়ে সঙ্গীদের নিয়ে এলাকায় তৃণমূলের দেওয়াল দখল করেছেন। ঠিক করেছিলেন, বৃহস্পতিবার হোয়াইটওয়াশ–‌করা দেওয়ালে বিজেপি–‌র রথযাত্রা নিয়ে লিখবেন। কিন্তু বুধবার তিনি সঙ্গীদের বললেন, ‘‌এখন থাক, রথযাত্রা–‌বৈঠকে কী হয় দেখি, তার পর…‌’‌।‌ দেওয়াল–‌লিখন আপাতত শিকেয়। বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর এক নেতার মন্তব্য জানানোর সোনালি সুযোগ কেউই হাতছাড়া করতে চাইবেন না। বললেন, ‘বাংলায় ‌আসন দখল পরে হবে, আগে হোক দেওয়াল দখল।’‌
দেওয়ালের লিখন কি কপালে ফুটে উঠবে!‌ আজকাল