টিডিএন বাংলা ডেস্ক: ঘূর্ণিঝড় ফণীতে রাজ‍্যের কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার হিসেব কেন্দ্রে এখনও পর্যন্ত পাঠাতে পারেনি রাজ‍্য সরকার। তাই কেন্দ্র থেকে কোনো আর্থিক সাহায্যও আসেনি। তবে রাজ‍্যের দাবি, ঘূর্ণিঝড়ে ফণীতে ৫৬৮ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে রাজ্যের। কিন্তু ক্ষতিপূরণের জন্য নবান্ন এখনও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে কোনও এস্টিমেটই পাঠাতে পারেনি! ফলে কোনও সহায়তাও আসেনি।

রাজ্যের দাবি, এই ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ২৯ হাজার বাড়ি আংশিক বা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই সব বাড়ি মেরামতির জন্য রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে প্রায় ১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে বলে সোমবার বিধানসভায় জানান বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের মন্ত্রী জাভেদ খান। ঝড়ের মূল অভিঘাত ওডিশায় পড়লেও রাজ্যের অনেকগুলি ব্লক এবং ছ’লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে মন্ত্রীর দাবি।

এই প্রেক্ষিতেই সিপিএম বিধায়ক সমর হাজরা প্রশ্ন করেছিলেন, এত ক্ষতি যদি তবে কেন্দ্রের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ বাবদ কোনও আর্থিক সহায়তা এসেছে কি?

মন্ত্রী বলেন, ‘ফণীর ক্ষতিপূরণে কেন্দ্র থেকে কোনও আর্থিক সহায়তাই আসেনি।’ তাঁর দাবি, ‘অতীতেও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কেন্দ্রের কাছ থেকে দাবি মোতাবেক সহায়তা আসেনি।’

জাভেদ তথ্য দেন, ২০১৫-১৭ সালের মধ্যে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে কেন্দ্রের কাছ থেকে রাজ্য সরকার প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করলেও মাত্র ১১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ মিলেছিল। কিন্তু এ বার যে আর্থিক সহায়তা চেয়ে কোনও এস্টিমেটই এখনও দিল্লিতে পাঠাতে পারেনি রাজ্য, তা প্রকাশ পায় জাভেদের কথাতেই।

তাঁর কথায়, ‘এই এস্টিমেট নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে তৈরি করতে হয়। আমরা সেই কাজ করছি। এস্টিমেট তৈরি হয়ে যাওয়ার পর তা কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হবে।’

ফণী-র সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে খড়গপুরে ছিলেন। জানিয়েছিলেন, বিপর্যয় মোকাবিলায় রাজ্য সরকারই সক্ষম। প্রধানমন্ত্রীর ফোনও তিনি সে সময়ে ধরেননি বলে ভোট-প্রচারে প্রবল চাপানউতোরও চলেছিল। সে কারণেই কি আর্থিক সহায়তা চেয়ে দিল্লিতে এস্টিমেট পাঠাতে এই ‘বিলম্ব’, তৈরি হচ্ছে নতুন বিতর্ক।