নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা: সংসদে যে বিল বৃহস্পতিবার পেশ করা হয়েছে তা বৃহত্তর মুসলিম মহিলাদের স্বার্থের বিরোধী বলে মন্তব্য করলেন জামায়াতে ইসলামি হিন্দের নেতারা। ওই সংগঠনের রাজ্য সভাপতি মুহাম্মদ নুরুদ্দিন টিডিএন বাংলাকে বলেন, “আমাদের আলাদা কোনও মন্তব্য নেই, মুসলিম পার্সোনাল’ল বোর্ডের মন্তব্যই আমাদের মন্তব্য। মুসলিম পার্সোনাল’ল বোর্ডের মতো আমরাও মনে করি, এই বিলটি বৃহত্তর মুসলিম মহিলাদের স্বার্থের বিরোধী এবং এতে তালাকপ্রাপ্ত মহিলা ও তার পরিবার দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই বিল শরিয়াহর মূল নীতির বিরোধী এবং এই উদ্যোগ মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে সরাসরি হস্তক্ষেপ বলে মনে করা হবে। প্রস্তাবিত এই বিলের বেশ কিছু ধারা বর্তমানে চালু অন্যান্য আইনের বিরোধী। ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স আইন ২০০৫, অভিভাবক আইন এবং ফৌজদারী আইন বলবৎ রয়েছে সেগুলিই যথেষ্ট। সংবিধানে ধর্ম পালনের অধিকারের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই বিল সেই অধিকার কেড়ে নেবে। সুপ্রিম কোর্ট ২২ আগস্ট ২০১৭ এই বিষয়ে যে রায় দিয়েছে এই বিল সেই রায়ের মূল অভিপ্রায় বিরোধী।”
জামায়াতের ওই নেতা আরও বলেন, “মুসলিম পার্সোনাল’ল বোর্ড কেন্দ্রকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, ধারা ২বি তালাকের (তালাকে বিদ্দাত) যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে সেটা মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট আগেই বাতিল করে দিয়েছে।

প্রস্তাবিত সংজ্ঞায় তালাকে বায়েন সহ আরও উল্লেখ আছে যেটা সুপ্রিম কোর্ট বেআইনি অ্যাখ্যা দেয়নি। কিন্তু বিলের ৩ ধারা এবং ২বি ধারায় তালাকে বায়েনকেও বেআইনি বলা হয়েছে। ২বি ধারায় বলা হয়েছে, ‘অথবা অন্য কোনো ভাবে বিচ্ছেদের উদ্দেশ্যে তালাক দেওয়া হলেও’ বেআইনি গণ্য করা হবে।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে যেখানে বলা হয়েছে তালাক বিদ্দাত অবৈধ যেটাকে বিবাহ বিচ্ছেদ হিসেবে গণ্য করা হবে না সেটাকে এই বিলে ফৌজদারি অপরাধ বলা হচ্ছে ৪নং ধারায়। তালাক হতে পারে না।
তাছাড়া তালাকপ্রাপ্তা মহিলার নাবালোক সন্তানদের ভরণপোষণ ও প্রতিপালনের বিষয়টিও সম্পন্ন উপেক্ষা করা হয়েছে এই বিলে। এমনকি সাহারাবানু মামলাটির কথাও বিবেচনা করা হয়নি এক্ষেত্রে।
আবার ব্যাভিচার সম্পর্কিত বিষয়টিও এই বিলে উল্লেখ নেই। অথচ ফৌজদারি আইনে ব্যাভিচারির শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। এমনকি ব্যাভিচার করলে মহিলার ইচ্ছার বিরুদ্ধেও শাস্তি দিতে পারে প্রচলিত আইন। কিন্তু এই বিলে সেই ব্যবস্থা নেই। ফলে কোনো তৃতীয় পক্ষের আবির্ভাব ঘটলে তার প্রভাব পরবে মহিলাটির উপরেও।

মুহাম্মদ নুরুদ্দিনের অভিযোগ করে বলেন, মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড মনে করে-এই বিল তৈরির সময় বা খসড়া বানানোর সময় সংসদীয় রীতিও অনুসরণ করা হইনি। সংশ্লিষ্ট পক্ষ, পীড়িত পক্ষ এমনকি কোনো মহিলা সংগঠনের সঙ্গেও পরামর্শ করা হয়নি এই বিলটি তৈরির সময়। সংসদে পেশ করার আগেই এই বিলটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেমন মহিলা ও তার সন্তানদের কল্যাণের দিকটি নিয়ে বরং বিরুপ ধারণা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে মাননীয় সংসদের নিকট। আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছে আলোচনা করা হলে সঠিক ধারণা দেওয়া সম্ভব হত।”

জামায়াতে ইসলামি মনে করছে,এই সরকার বিভাজনের রাজনীতি করতে চাইছে।