নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা: বিতর্কিত সিএএ, এনপিআর ও এনআরসির বিরুদ্ধে ফের রাস্তায় নামল কলকাতার মহিলারা। বৃহস্পতিবার হাজার হাজার নারী কলকাতার রাজপথে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে সিএএ প্রত্যাহারের দাবি জানান। এদিনের সিএএ, এন পিআর ও এনআরসি বিরোধী বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন জামায়াতে ইসলামী হিন্দের রাজ্য মহিলা সভাপতি নাইমা আনসারী, জামায়াতের ছাত্রী সংগঠন গার্লস ইসলামিক অর্গানাইজেশন অফ ইন্ডিয়ার রাজ্য সভাপতি পারমিতা পারভীন, মুসলিম পার্সোনাল’ ল বোর্ডের সদস্য উজমা আলম ও সুবুই আজিজ, মেরেন্ডা হাউস কলেজের অধ্যাপিকা দেবযানী রায়, ফ্র্যাটারনিটি মুভমেন্টের কেন্দ্রীয় নেত্রী রেহানা সুলতানা, জামায়াতের মাহফুজা খাতুন প্রমুখ।


এদিন হাজী মহসীন স্কোয়ার থেকে মিছিল শুরু হয়ে শেষ হয় গান্ধী মূর্তির পাদদেশে ।সেখানে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এক মহিলা নেত্রী টিডিএন বাংলাকে জানান, স্বাধীনতার পর এই প্রথম মহিলারা এইভাবে পথে নেমেছে। ইনসাফ না মেলা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।


হাওড়ার এক নারী তার দেড় বছরের দুধের শিশুকে নিয়ে সভায় আসেন। বললেন, দুধের শিশু নিয়ে পথে নেমেছি। আমরা চাই সিএএ, এনপিআর বাতিল করুক সরকার। এই প্রতিনিধির সঙ্গে মা কথা বলতে বলতেই ছেলে কাঁদতে লাগলো। একটু আদর করে শিশুর হাতে ‘নো এনআরসি’ লেখা প্ল্যাকার্ড দেওয়ার চেষ্টা করলেন মা। এরপর মা এই প্রতিবেদককে বললেন, ‘কী করবো বলুন, এক বছর হল। দুধ খাবে। কিন্তু আন্দোলন করতে হবে যে, তাই এখন একটু কষ্ট করতে হচ্ছে। ও বড় হয়ে যদি জানতে পারে মা সিএএ, এনআরসির বিরুদ্ধে পথে নেমেছিল, তবে গর্বিত হবে।


সংগঠনটির রাজ্য সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুর রফিক তাঁর বক্তব্যে বলেন, রাজপথে নেমে মহিলারা আজ যে বার্তা দিচ্ছে সরকারকে সেদিকে খেয়াল দিতে হবে। গায়ের জোরে জনবিরোধী আইন চাপিয়ে দিলে দেশের জাগ্রত জনতা তা মেনে নেবেনা। তিনি সিএএ বিরোধী আন্দোলনগুলিকে সমর্থন দেওয়ার কথা বলেন।


জামায়াতের সানেক রাজ্য সভাপতি মুহাম্মাদ নুরুদ্দিন বলেন, হাজার হাজার মহিলা পথে নেমে এসে ইতিহাস তৈরি করেছেন। আসলে নাগরিক আইন সংশোধন করে যে আইন তৈরী করা হয়েছে তা বিভ্রান্তিকর। শরণার্থীদের নাগরিকত্ব অবশ্যই দেওয়া উচিত কিন্তু ইচ্ছে করে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি করতে ধর্মীয় শব্দ আইনে এনে বিভেদ তৈরি ঠিক নয়। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে গণ আন্দোলনের পাশাপাশি আইনের লড়াই লড়তে হবে। তিনি কংগ্রেস শাসিত রাজ্য গুলিতে এনপিআর চালু করার তীব্র সমালোচনাও করে বলেন, এটা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা। দেশের এই কঠিন পরিস্থিতিতে শাসক ও বিরোধীদের আলোচনায় বসতে হবে। উপস্থিত ছিলেন কারী ফজলুর রহমান, প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রহমত আলী খান, রাজ্য সম্পাদক মশিউর রহমান প্রমুখ। রহমত আলী খান বিজেপি সরকারের দেশ পরিচালনায় যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।