টিডিএন বাংলা ডেস্ক : বিরোধী দল থেকে যাদের টিকিট মেলেনি, কিংবা যারা দলের উপর ক্ষুদ্ধ, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে তাদেরকেই টার্গেট করেছে বিজেপি। প্রথম থেকেই তৃণমূলের প্রার্থী তালিকার দিকে নজর ছিল বিজেপির। তবে, সেই সঙ্গে আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের দিকেও নজর রয়েছে। আসলে চেনা মুখের অভাবেই এভাবে লোকসভার রণকৌশল ঠিক করতে গিয়ে সমস্যায় গেরুয়া শিবির।

তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ পাওয়ার পরেই তৎপরতা বেড়েছে গেরুয়া শিবিরে। কিভাবে অন্য দলের নেতাদের ভাঙিয়ে দলে ভেড়ানো যায় সেই কৌশলই চালাচ্ছে বিজেপি। বিজেপির প্রথম সারি ও বিরোধীদের দলত্যাগী নেতাদের নিয়ে উনিশে বেশিরভাগ আসনে জেতার মরিয়া গেরুয়া শিবির। সেক্ষেত্রে তৃণমূলের টিকিট না পেয়ে যাঁরা বিক্ষুব্ধ তাঁদের সঙ্গেও যোগাযোগ করছে বিজেপি। দীপা দাশমুন্সির সঙ্গেও প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর। বেশ কিছুদিন আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেয় মুকুল রায়। মুকুল রায় জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন তৃণমূলের প্রাক্তন বন্ধুদের বিজেপিতে টানার। সব্যসাচী দত্ত বা অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে জানা যায়। রাজ্য সভাপতির দাবি, অনেকেই যোগাযোগ করছেন।

আদতে দলের অনেকে প্রার্থী হতে চাইলেও সেই সব সংগঠকরা চেনা মুখ নন। অথচ এরাজ্যে চেনামুখের উপর ভরসা করতে চাইছে বিজেপি। সেকারণে তৃণমূল, কংগ্রেস, সিপিএমের চেনা মুখই ভরসা।

দলের মধ্যে কারা প্রার্থী হতে পারেন তা নিয়ে জল্পনা চলছে। তবে বিজেপি সূত্রে খবর, দিলীপ ঘোষ মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে ভোটে দাঁড়াতে পারেন। রাহুল সিনহা আবারও উত্তর কলকাতা থেকে টিকিট পাচ্ছেন। শমীক ভট্টাচার্য এবার বসিরহাট ছেড়ে দমদমে দাঁড়ানোর ইচ্ছেপ্রকাশ করেছেন। টিকিট পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে লকেট চট্টোপাধ্যায়ও। গতবার বীরভূমে দাঁড়িয়ে হেরে যাওয়ার পর এবার বাঁকুড়ায় দাঁড়ানোর ইচ্ছেপ্রকাশ করেছেন। সেক্ষেত্রে রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়ও রয়েছেন বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের দাবিদার। ঘাটাল থেকে এবার অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস ভারতী ঘোষকে টিকিট দিতে চাইছে দল। কৃষ্ণনগরে সত্যব্রত মুখোপাধ্যায় আবার প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু, সেক্ষেত্রে বাধা তাঁর বয়স। এক্ষেত্রে জয়প্রকাশ মজুমদার টিকিট পেতে পারেন কৃষ্ণনগর থেকে। রানাঘাটে এবার ঠাকুর বাড়ির সদস্য শান্তনু ঠাকুরকেই প্রার্থী করতে চাইছে বিজেপি।

আবার বাগদার তৃণমূল বিধায়ক সবে জোড়াফুল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তাঁকে বনগাঁ আসন থেকে ভোটে দাঁড় করিয়ে বাজিমাত করতে চাইছে বিজেপি। দমদম লোকসভা কেন্দ্রে প্রাক্তন সাংবাদিক রন্তিদেব সেনগুপ্তের নাম শোনা যাচ্ছে। যদিও সংঘের আপত্তি রয়েছে। সেক্ষেত্রে সৌগত রায়কে হারাতে শমীক ভট্টাচার্যই হবেন সেরা বাজি। ছাড়া কোচবিহারের তৃণমূল সাংসদ পার্থপ্রতিম রায়ও রয়েছেন। তৃণমূলের দলত্যাগী সৌমিত্র খাঁ বিষ্ণুপুর থেকে প্রার্থীপদ পাওয়া সময়ের অপেক্ষা। তবে অনুপম হাজরা কোথায় টিকিট পাবেন তা এখনও ঠিক হয়নি।