নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা : হাজার হাজার গ্রামীন সম্পদ কর্মীদের অবস্থান বিক্ষোভ হয় কলকাতায়। শুক্রবার ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিং এর কাছে পুলিশের সাথে দবস্তাধস্তি হয়। এই বিক্ষোভের জেরে এস এন ব্যানার্জি রোড থেকে ডোরিনা পর্যন্ত যানচলাচল বন্ধ থাকে। ফলে হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়। টিডিএন বাংলাকে একজন পথচারী বলছিলেন, সেই শিয়ালদা থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত হেঁটেই তাকে আসতে হয়েছে। পুরো রাস্তা যানজট ছিল।

এদিন গ্রামীন সম্পদ কর্মীরা বেতন বৃদ্ধি ও স্থায়ীকরণের দাবি নিয়ে নবান্ন যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। আন্দোলনকারীদের, অভিযোগ পুলিশ লাঠিচার্জ করলে অনেকে আহত হয়। কিন্তু পুলিশ বলছে, আন্দোলনকারীরা রাস্তা অবরোধ করার চেষ্টা করে। এদিন ধর্মতলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান বিক্ষোভে বসার পরিকল্পনা নিয়েই গ্রামীন সম্পদ কর্মীরা যাচ্ছিল বলে সূত্রের খবর। পুলিশ সেটা বুঝতে পেরেই আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। কিন্তু সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান ও ভিআরপিদের সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক অমিত সরকার আন্দোলনকারীদের নিয়ে ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিং এর কাছে বসে পড়েন। আরও যানজট বাড়তে থাকে। দুপুর পর থেকে বিক্ষোভ চলে। গ্রামীন কর্মীরা সারারাত অবস্থান করার ঘোষণা দেয়। কিন্তু পুলিশ সেই অনুমতি দেয়নি। মুহাম্মদ কামরুজ্জামান টিডিএন বাংলাকে বলছেন,’ পুলিশ সরকারের নির্দেশে অবস্থান তুলে দিয়েছে।’

তিনি আরও জানান, রাজ্যে ৩৩ হাজার গ্রামীন সম্পদ কর্মী। এদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বরদাস্ত করা হবেনা। ন্যায্য দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছে। সরকার দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন থেকে সরছিনা। অধিকার নিয়ে হাজার হাজার গ্রামীন কর্মী অনশন করবে, জেল বরণ করবে।
ভিআরপি বা অল বেঙ্গল ভিলেজ রিসোর্স পার্সন এমপ্লয়েজ এসোসিয়েশন
মাসিক বেতন চালুর দাবি করে। সেই সাথে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত কর্ম নিশ্চয়তার দাবি ওঠে।

ওই সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক অমিত সরকার বলেন,”দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছি। মাস পাঁচেক আগে নবান্ন অভিযান করেছে তিরিশ হাজার কর্মী। আমাদের দেড়শো টাকা দিয়ে বছরে ষাট দিন কাজ দেওয়া হয়। কাজ করলে টাকা আসে নইলে নয়। তাই আমরা মাসিক ৫ হাজার টাকা বেতন দাবি করছি। সেই সাথে স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের আওতায় সকলকে অন্তর্ভুক্ত করা, ভিআরপিদের নিয়োগ পত্র ও পরিচয় পত্র প্রদান, সরকারি বিভিন্ন সুযোগপত্র প্রদান করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছি। সরকার দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।